ভৈরব জেলার দাবিতে রেলপথ অবরোধ করে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, আহত ২০
ভৈরবকে জেলা ঘোষণার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো রেলপথ অবরোধ করেছেন এলাকাবাসী। এতে ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে।
আজ সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে ভৈরব রেলস্টেশনে বিক্ষোভ শুরু হয়। এর আগে দাবির সমর্থনে গতকাল রোববার তিন দিনের কর্মসূচি শুরু করে এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকালে ভৈরব রেলস্টেশনে লাল কাপড় হাতে জড়ো হন শতাধিক বিক্ষোভকারী। একপর্যায়ে নোয়াখালী থেকে ঢাকাগামী বিরতিহীন উপকূল এক্সপ্রেস স্টেশন অতিক্রম করার সময় তারা লাল কাপড় উড়িয়ে রেলপথে নেমে পড়েন। এতে ট্রেনটি স্টেশনে থেমে যায়।
পরে বিক্ষোভকারীরা ইট দিয়ে প্ল্যাটফরমের এক নম্বর লাইন বন্ধ করে দেন এবং “ভৈরব জেলা চাই” স্লোগানে স্টেশন প্রাঙ্গণ মুখর করে তোলেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী মো. শাহীন এবং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী মুহাম্মদ জোনায়েদসহ স্থানীয় নেতারা।
বেলা পৌনে ১২টার দিকে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছাড়ার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীরা ট্রেনের ইঞ্জিনের দিকে পাথর নিক্ষেপ করেন। এতে দুই যাত্রী আহত হন। পরে দুপুর ১২টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বক্তারা বলেন, ২০০৯ সালে ভৈরবকে দেশের ৬৫তম জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। এ জন্য একটি পরীক্ষামূলক কমিটিও গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কিন্তু রাজনৈতিক জটিলতার কারণে জেলা ঘোষণার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি।
তারা আরও বলেন, ১৫ বছর ধরে আমরা অপেক্ষায় আছি। এবারও ভৈরবকে জেলা ঘোষণা না করা হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
এদিকে তিন দিনের কর্মসূচির শেষ দিন আগামীকাল মঙ্গলবার নৌপথ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।