ভারতকে পাত্তাই দিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র !

শনির দশা চলছে ভারতের। একের পর এক দু:সংবাদ যেনো পিছু ছাড়ছে না। যেই প্রতিবেশীদেশগুলোর ওপর একরকম দাদাগিরি করেই দিন যেত, এখন তারাও পাত্তা দিচ্ছে না ভারতকে। ভরসা জায়গা বলতে ছিলো আমেরিকা। সেখানেও খুব একটা সুবিধা করতে পারল না ভারত! বানিজ্যমন্ত্রী পিযুষ গোয়ালকে পাঠিয়ে তদবির করেও ট্রাম্পের "টিট ফর ট্যাট" নীতি থেকে নিস্তার পেল না ভারত। মোদীকে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে,  শুল্ক আরোপে কোন ছাড় দেয়া হবে না।

এদিকে, ২০২১ সালে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের বিমানবন্দরে ভয়াবহ বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত শীর্ষ আইএস সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারে সহায়তার জন্য পাকিস্তানের ভূয়সী প্রশংসা করলেন ট্রাম্প !  ২০২১ সালের ওই হামলায় ১৩ জন মার্কিন সেনা ও শতাধিক আফগান নাগরিক নিহত হয়েছিলেন। অর্থ্যাৎ শত্রুকে কাছে টানছে ট্রাম্প- এটা যেন শেল হয়েই বিধছে মোদির বুকে !

নির্বাচিত হবার আগে থেকেই শুল্কনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন ট্রাম্প। বিশেষ করে ভারতের উপর বেশ ক্ষ্যাপা ছিলেন তিনি। এমনকি  ভারতকে 'ট্যারিফ কিং'  বলেও উল্লেখ করেন । আর বলবেই বা না কেন, ভারতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত পণ্যের উপর চড়া শুল্ক দিতে হয়। কিছু কিছু পন্যের উপর শুল্ক ১০০ শতাংশ।  ট্রাম্প বলেন, ‘ভারত আমাদের কোনো কোনো পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপায়। এটা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ন্যায্য নয়।’ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেলেও ট্রাম্প শুল্ক বৃদ্ধির কথা জানিয়ে দেন।

ট্রাম্পের মনোভাব বুঝতে পেরেই মোদি নানা ভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করার চেষ্টা করতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের মন ভুলাতে আমদানি করা মোটরবাইক ও হুইস্কির মতো বেশ কিছু পণ্যের আমদানি শুল্ক হ্রাস করে। তারপর সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও প্রতিরক্ষা সম্ভার কেনার প্রস্তাব দেয়। নতুন বাণিজ্য চুক্তি করে।  ভারতের বিশাল বাজার  খুলে দেওয়ার কথাও শুনিয়ে আসে। দেশে এসেই আবার তড়িঘড়ি করে বাণিজ্যমন্ত্রী পীযুষ গোয়ালকে পাঠিয়ে দেয় শুল্ক আরোপের হাত থেকে বাঁচার জন্য। সঙ্গে পাঠান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রাজেশ আগরওয়ালকেও। উদ্দেশ্য ছিল, ট্রাম্প প্রশাসনকে বোঝানো। ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী। সেক্ষেত্রে একতরফাভাবে পারস্পরিক শুল্কনীতি রূপায়নের আওতা থেকে ভারতকে বাইরে রাখা হোক। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলো কই! গোয়ালার তদবির ও বাঁচাতে পারল না মোদির ভারতকে।

ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ভারতের সাথে সম্পর্কের উন্নয়ন চাইলেও তা শুল্ক ছাড়ের বিনিময়ে নয়। আগামী ২ এপ্রিল থেকেই কার্যকর হবে হবে শুল্কনীতি।’টিট ফর ট্যাট ’নীতি অনুযায়ী যে দেশ যেমন শুল্ক আরোপ করবে তাদের ঊপরেও যুক্তরাষ্ট্র একই নীতি গ্রহণ করবে। 


অর্থ্যাৎ ভারত ভাল নাই ! চারদিক থেকে ঘিরে ধরছে অমানিশা ! সে অমানিশায় আলোর দেখা ফের কবে পাবে ভারত- সেটা দেখতে অপেক্ষা করতেই হচে্ছ ! 
 

All Categories