ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পাকিস্তানে নিহত ৮
কাশ্মীর সীমান্তে উত্তেজনা ফের চরমে। পাকিস্তান ও আজাদ কাশ্মীরের অন্তত নয়টি স্থানে ভারত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের দাবি, এসব হামলায় অন্তত আটজন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছেন। ভারত বলছে, সন্ত্রাসী ঘাঁটি লক্ষ্য করেই তাদের এই অভিযান।
আজ বুধবার এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ভারতীয় সেনাবাহিনী ‘সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক’ হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে নয়াদিল্লি। নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন সিন্দুর’। ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন, কাশ্মীরের পর্যটকদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার জবাবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, মধ্যরাতের পর আজাদ কাশ্মীরের কোটলি, ভাওয়ালপুর, মুরিদকে, বাঘ ও মুজাফফরাবাদে হামলা চালায় ভারত। এতে তিনজন নিহত এবং অন্তত ১২ জন আহত হন। পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় আটজনে।
আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী এক বিবৃতিতে এই হামলাকে কাপুরুষোচিত ও জঘন্য উসকানি’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, আমরা সুবিধাজনক সময়ে এর উপযুক্ত জবাব দেব।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ বলেছেন, ভারতের হামলায় বেসামরিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে দুটি মসজিদও বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, ‘সেখানে কোনো জঙ্গি শিবির ছিল না।
হামলার পর পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা পাঁচটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। এর মধ্যে তিনটি রাফাল, একটি এসইউ-৩০ ও একটি মিগ-২৯। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বিমানগুলো হামলার পর পালানোর সময় গুলি করে ভূপাতিত করা হয়।
অন্যদিকে, ভারত জানিয়েছে, তাদের হামলায় শুধুমাত্র সন্ত্রাসী ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু ছিল। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লস্কর-ই-তৈয়বা ও জইশ-ই-মোহাম্মদের ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বলেছে, ন্যায়বিচার করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। ওয়াশিংটনে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ‘ভারতের হামলাগুলো ছিল সুনির্দিষ্ট এবং আত্মরক্ষামূলক।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দেশ প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। তবে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
এদিকে, পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। হাসপাতাল ও জরুরি পরিষেবাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী।
স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মুজাফফরাবাদে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিস্ফোরণের পরপরই সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে এই উত্তেজনা দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি তৈরি করতে পারে।