ভারতীয় বিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করল পাকিস্তান
কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার জেরে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক আবারও চরম উত্তেজনায় পৌঁছেছে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার ভারতীয় বিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান।
পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির (এনএসসি) বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। পরে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পাঠানো বিবৃতিতে সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়। খবর রয়টার্সের।
এর আগে বুধবার ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটির বৈঠকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত, আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত বন্ধ, দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের সামরিক উপদেষ্টাদের বহিষ্কার এবং ইসলামাবাদ থেকে ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার।
পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি জানিয়েছেন, দুই দেশের হাইকমিশনে কর্মরত কর্মকর্তার সংখ্যা ৫৫ থেকে কমিয়ে ৩০ জনে নামিয়ে আনা হচ্ছে। পাশাপাশি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে পাকিস্তানিদের ভারতে প্রবেশ। বাতিল করা হয়েছে সব সার্ক ভিসা। যাঁরা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন, তাঁদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর হামলার জন্য সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করা হয়। মোদি সরকার জানিয়েছে, ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর এটি কাশ্মীরে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।
কাশ্মীরের বৈসরণ উপত্যকায় এ হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন। পর্যটকদের কাছে জায়গাটি ‘ভারতের সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিত। ভারত সরকার জানিয়েছে, হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সম্ভাব্য সবকিছুই করা হবে।
হামলার নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইরান, ইতালিসহ একাধিক দেশ। পাকিস্তানও এক বিবৃতিতে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এদিকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে লিখেছেন, পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় আমার গভীর সমবেদনা গ্রহণ করুন। আমরা এ জঘন্য কাজের তীব্র নিন্দা জানাই।
সাম্প্রতিক পদক্ষেপে দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।