ভারতীয় ম্যালওয়্যারে জামায়াত নেতাদের সাইবার আক্রমণ
ভারতে তৈরি ম্যালওয়্যার বঙ্গভবনের ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের ডিভাইস হ্যাক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি।
মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর মগবাজারের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাইবার আক্রমণের এই অভিযোগ করা হয়।সেখানে জানানো হয়, জামায়াতের আমিরের পর দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ডিভাইস হ্যাকের মাধ্যমে তার এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডল থেকে নারীদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে।
জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, ডিভাইস হ্যাকের মাধ্যমে ৩১ জানুয়ারি শফিকুর রহমানের এক্স এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদের ফেসবুক পেইজে অনুপ্রবেশ করে হ্যাকাররা। মঙ্গলবার রাত ৮টা ৩১ মিনিটে একই প্রক্রিয়ায় গোলাম পরওয়ারের এক্স থেকে আপত্তিকর পোস্ট করা হয়। রাত সোয়া ৯টার দিকে নজরে আসার পর জামায়াত সংবাদমাধ্যমকে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে। এবার আর জিডি নয়, সাইবার আইনে মামলা করা হবে।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার সরওয়ার আলমকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার বিকেলে জামায়াতের প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিবের সঙ্গে সাক্ষাতে রাষ্ট্রপ্রধানের কার্যালয়ের ই-মেইল ব্যবহার করে হ্যাকিংয়ের অভিযোগ দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিকার দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সিরাজুল বলেন, জামায়াত আমিরের মেইলে বঙ্গভবনের [email protected] ই-মেইল থেকে ম্যালওয়্যার পাঠানো হয়। সিসিতে জামায়াতের আরও কয়েক নেতার ই-মেইল ঠিকানা ছিল। আলাদাভাবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের মেইলেও এসেছিল। জানতে পেরেছি আরও বেশ কিছু জায়গায় এই মেইলটি এসেছে এবং ইতোমধ্যে অনেকগুলো ডিভাইস হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রিত হয়ে আছে। জানি না তারা কতগুলো ডিভাইস নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। বিষয়টি সরকারকে জানিয়েছি।
সিরাজুল বলেন, সরকার তালিকা করুক কতগুলো ডিভাইস তারা অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী (ইন্ট্রুডার) হিসেবে হ্যাকররা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনার ল্যাব রিপোর্টের বরাতে মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ডিপ ফরেনসিক অ্যানালাইসিস রিপোর্ট সংগ্রহ করেছি। প্রথম অরিজিন মেইল বক্স হচ্ছে bcc.gov.bd। সেখান থেকে ইন্ট্রোডিউস হয়েছে। সার্ভার bangabhaban.gov.bd-তে রাখা। সেখান থেকেই মেইলটি এসেছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন পর্যায় ঘুরে ফাইনালি জামায়াতের নেতাদের পাঠানো হয়েছে।
ফিশিং ম্যালওয়্যার সম্পর্কে সিরাজুল ইসলাম বলেন, যে ম্যালওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে, তা ভারতে তৈরি। এভাবে জামায়াতের জনপ্রিয়তা রোখা যাবে না। জামায়াত নারীর সম্মান, নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী।
জামায়াত সাইবার হামলা ঠেকাতে পারলে কীভাবে ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্র চালাবে প্রশ্নে সিরাজুল বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে হ্যাকিং ও হামলা ঠেকাতে পেরেছি। তদন্ত করেছি এবং পুরো অবস্থাটি জানিয়েছি। যা জামায়াতের সক্ষমতার প্রমাণ। তবে সরকারি দপ্তরে বসে যারা হামলা করছেন, তারা অন্যায় করছেন। জামায়াত সরকার গঠন করলে এসব অন্যায় হবে না।
সাইবার হামলায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা প্রশ্নে সিরাজুল বলেন, আন্দাজের ভিত্তিতে কিছু বলতে চাই না। তবে রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে দৃঢ়ভাবে মনে করছি। কারণ জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার পর নানাবিধ চক্রান্তমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট দলের কর্মীবাহিনী অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তারাই জামায়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের অবস্থা ছাত্র সংসদে ভোটের পরিমাণে প্রমাণিত হয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ওলিউল্লাহ নোমান ও ব্যারিস্টার সাইফুদ্দিন খালেদ।