ভারত যাচ্ছেন জয়, সাক্ষাৎ হতে পারে শেখ হাসিনার সঙ্গে

আওয়ামী লীগের নির্বাসিত শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অন্যতম সজীব ওয়াজেদ জয় শিগগিরই ভারত সফরে যাচ্ছেন। এই সফরে নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত তাঁর মা ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ হতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮।

খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দলটির একাধিক নেতাও ইঙ্গিত করেছেন, এ সফর হতে পারে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

শেখ হাসিনা গত বছরের ৫ আগস্ট ভারতে গমন করার পর থেকেই তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। দীর্ঘদিন পর মা ও ছেলের সরাসরি দেখা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সফরের অংশ হিসেবে জয়ের কলকাতা যাওয়ার কথাও জানা গেছে। কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রেস সচিব তারিক চয়ন এক ফেসবুক পোস্টে এ সফরের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

নিউজ ১৮-এর প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, সজীব ওয়াজেদ জয় সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নিয়েছেন। বাংলাদেশি পাসপোর্ট বাতিল হয়ে যাওয়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন। এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও দলীয় ঘনিষ্ঠ সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বর্তমানে জয় যুক্তরাষ্ট্রেই অবস্থান করছেন। তবে ভারত সফরের প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ায় যেকোনো সময় দিল্লির উদ্দেশে রওনা হতে পারেন তিনি।

এই সফরের সময়টা গুরুত্বপূর্ণ কারণ, চলতি মাসের শুরুতে সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। গত ১০ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে দলটির সব ধরনের অনলাইন ও অফলাইন কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর ১২ মে নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল করে, এতে দলটির আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়।

দলের নিবন্ধন বাতিল ও নেতাদের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে জয়-এর সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। নিউজ ১৮–কে দেওয়া এক মন্তব্যে সাবেক এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, আমরা আশা করছি, জয় দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং রাজনৈতিক উত্তরণে ভূমিকা রাখবেন। সরকার যেভাবে দলটিকে নিষিদ্ধ করেছে, তা অনৈতিক এবং গণতন্ত্রের পরিপন্থী।

জয়ের এই সফর নতুন কোনো কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক উদ্যোগের অংশ কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনর্বাসন বা বিকল্প কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়-এর মধ্যে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ না থাকলেও এতদিন ভার্চুয়ালি কিছু যোগাযোগ হয়েছে বলে দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে।

দলীয় নেতাদের মতে, জয়-হাসিনা সাক্ষাৎ যদি হয়, তবে সেখান থেকে আওয়ামী লীগের সামনে রাজনৈতিক অচলাবস্থা থেকে উত্তরণের কিছু বার্তা আসতে পারে,সেটিই হতে পারে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কর্মকৌশলের ইঙ্গিত। আপাতত দলের সব স্তরের নেতাকর্মীরা এই সফর ও সম্ভাব্য বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছেন।

All Categories