ভারত–পাকিস্তান উত্তেজনা চরমে,পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি বৈঠকে পাকিস্তান
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কয়েক দিনের টানা পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার মধ্যে শনিবার ভোরে পাকিস্তান ভারতের একাধিক সামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনেছে বলে দাবি করেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবস্থাপনা সংস্থা ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটি এনসিএ-র জরুরি বৈঠক ডেকেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগার ধ্বংস করা হয়েছে। একইসঙ্গে পাঠানকোট ও উধমপুর বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে। ইসলামাবাদে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আরও জানায়, এই হামলাগুলো ভারতের আগের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিশোধ হিসেবে চালানো হয়েছে।
পাকিস্তানের দাবি, ভারত ইসলামাবাদ ও আশপাশের এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, যদিও তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
এই হামলার পরই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটি এনসিএ-র বৈঠক আহ্বান করেন। এই সংস্থাটি পারমাণবিক অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা কৌশল সংক্রান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই বৈঠক পাকিস্তানের ‘প্রথম ব্যবহার’ নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এক ধরনের পারমাণবিক সতর্কবার্তা।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্টিমসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশ্লেষক আসফান্দিয়ার মির বলেন, এটি আমাদের যুদ্ধের শঙ্কাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। আগে কখনো এভাবে এনসিএ-র আলোচনার মাধ্যমে পারমাণবিক ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি।
ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি, পাকিস্তানের হামলার পাল্টা জবাবে নুর খান, মুরিদ ও শোরকোট ঘাঁটিতে তারা আকাশপথে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে একটি ঘাঁটি রাজধানী ইসলামাবাদের কাছেই অবস্থিত।
ভারতীয় সেনাবাহিনী আরও অভিযোগ করেছে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পাকিস্তান সশস্ত্র ড্রোন ও গোলাবারুদ ব্যবহার করে ‘স্পষ্ট আগ্রাসন’ চালিয়েছে। ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, পাঞ্জাবের অমৃতসরের আকাশে একাধিক ড্রোন দেখা গেছে, যেগুলো ভূপাতিত করা হয়েছে।
ভারতীয় পুলিশ দাবি করেছে, পাকিস্তানের হামলায় জম্মু অঞ্চলে পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। জম্মু ও শ্রীনগর শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে।
পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, আমরা কোনো বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করিনি। আমাদের হামলার লক্ষ্য ছিল শুধু সেই স্থানগুলো, যেগুলো থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালানো হয়েছে।
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে দক্ষিণ এশিয়ায় গত তিন দশকে সবচেয়ে বড় সামরিক সংঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলমান সংঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জাতিসংঘ এরই মধ্যে উভয় দেশকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন, দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে উত্তেজনার এই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানো একটি বিপজ্জনক মোড় নিতে পারে, যা শুধুমাত্র উপমহাদেশ নয়, বরং গোটা বিশ্বের জন্যই হুমকিস্বরূপ।