ভালো আলোচনা চললেও কোনো বিষয়েই ঐকমত‍্য হচ্ছে না: এবি পার্টি

রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনার টানা তৃতীয় দিনেও কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তিন দিন ধরে বিস্তৃত আলোচনা-বিশ্লেষণ চলছে। কিন্তু জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসহ গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়েই ঐকমত্য তৈরি হয়নি। এটি খুবই দুঃখজনক।

তিনি আরও বলেন, জনগণ আমাদের কাছে আশা করে আমরা একটি নির্দিষ্ট সংস্কারমুখী সিদ্ধান্তে পৌঁছাব। কিন্তু যাঁরা এতদিন রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের অংশ ছিলেন, তাঁদের কেউ কেউ এখন সংস্কারে অনাগ্রহী আচরণ করছেন। এতে নাগরিক সমাজে হতাশা সৃষ্টি হচ্ছে।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান জানান, ৩২টি রাজনৈতিক দল নিয়ে চলমান আলোচনার আগে প্রত্যেক দলকে আলাদাভাবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এত প্রস্তুতির পরও আলোচনায় গতি আসছে না, যা একটি আশঙ্কাজনক ইঙ্গিত।

বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে মজিবুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতির মর্যাদাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জাতির ঐক্যের প্রতীক। কিন্তু বর্তমান পদ্ধতিতে একজনকে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করলেই তিনি রাষ্ট্রপতি হয়ে যান এটি পরিবর্তন জরুরি। তাই সংসদ সদস্যদের বাইরে একটি ইলেকটোরাল কলেজ গঠনের প্রস্তাব আমরা সমর্থন করছি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানী আবদুল হক বলেন, বাংলাদেশে কর্তৃত্ববাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধে একজন ব্যক্তি যেন টানা দুইবারের বেশি কিংবা অন্য কোনো উপায়ে বারবার প্রধানমন্ত্রী হতে না পারেন  এ ধরনের সাংবিধানিক বিধান জরুরি।

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদিও আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এমন ব্যবস্থার পূর্বানুভব নেই, তবুও জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার স্বার্থে এবি পার্টি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা প্রবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা চলমান রয়েছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য থাকায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি নিয়ে সংশয় বাড়ছে।

All Categories