উচ্চ রপ্তানি প্রবৃদ্ধির পথে বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত, সামনে সংকটের শঙ্কা
চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে ১৫০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি। এই প্রবৃদ্ধি শীর্ষ ১০ রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি করা মোট পোশাকের ৯ দশমিক ৫ শতাংশ দখলে রয়েছে বাংলাদেশের।
তবে এ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা নিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছেন। এর আওতায় ২ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশি তৈরি পোশাকে ৩৭ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে, যা ভারত (২৬%) ও পাকিস্তানের (২৯%) তুলনায় বেশি।
এ বিষয়ে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন,বর্তমানে মার্কিন ক্রয়াদেশ নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় রয়েছি। যেসব পণ্যের উৎপাদন শেষ, সেগুলোর জাহাজীকরণ পিছিয়ে যেতে পারে কিংবা ক্রেতারা বাতিলও করতে পারেন। আবার যেসব অর্ডার এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তার একটি অংশ অন্য দেশে স্থানান্তর হতে পারে।
তিনি জানান, ইতিমধ্যে শীতকালীন পোশাকের অর্ডার এলেও আগামী গ্রীষ্ম মৌসুমে অর্ডার কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, উচ্চ শুল্কের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাকের চাহিদা কমে যেতে পারে। এছাড়া কম শুল্কপ্রাপ্ত দেশগুলোর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহও বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ‘অটেক্সা’র হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম দুই মাসে দেশটিতে মোট ১ হাজার ৩৫৫ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত ও পাকিস্তান যথাক্রমে ২৫ দশমিক ৭০ ও ২৩ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। অন্যদিকে চীন ৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে এখনও শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি ২৭৭ কোটি ডলার এবং ভিয়েতনামের ২৬২ কোটি ডলার।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, নতুন শুল্ক নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান চাপে পড়তে পারে। বিশেষ করে প্রতিযোগী দেশগুলোতে তুলনামূলক কম শুল্ক আরোপের কারণে অর্ডার সরে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।