‘ট্রাম্পকে কথা বলার ধরন পাল্টাতে হবে’ পরমাণু চুক্তি নিয়ে হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। বলেছেন, ট্রাম্প যদি সত্যিই কোনো পরমাণু চুক্তি চান, তবে তাকে প্রথমে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি অপমানজনক ভাষা ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

শনিবার (২৮ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই হুঁশিয়ারি দেন। আরাগচি লিখেছেন, ‘খামেনির প্রতি অসম্মানজনক আচরণ আমরা মেনে নেব না। তিনি কেবল একজন নেতা নন, লক্ষ লক্ষ ইরানির শ্রদ্ধার প্রতীক। তাঁর প্রতি অবমাননা মানে পুরো জাতির প্রতি অবমাননা।

আরাগচির দাবি, ইরানের সামরিক শক্তি দেখে ভয় পেয়ে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের শরণাপন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র দেখে ওরা বুঝে গেছে, ইরানের সামনে দাঁড়ানোর ক্ষমতা নেই। তাই বাবার (যুক্তরাষ্ট্রের) কাছে গিয়ে সাহায্য চেয়েছে।

গত দুই সপ্তাহ ধরে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলা সরাসরি সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্রও জড়িয়ে পড়ে। মার্কিন বাহিনী ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর পরেই ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি জানতাম খামেনি কোথায় লুকিয়ে ছিলেন। চাইলে তাঁকে হত্যা করা যেত। কিন্তু আমি সেটা করিনি। ওঁকে অপমানজনক মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছি, অথচ তিনি আমাকে ধন্যবাদও দেননি।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যকেই অশোভন ও চুক্তিবিরোধী বলে বিবেচনা করছে তেহরান। আরাগচি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, খামেনির প্রতি এমন আচরণ চলতে থাকলে ইরান কখনোই আলোচনার টেবিলে বসবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট পরে দাবি করেন, তিনি ইরানের ওপর আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ারও চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু এর বদলে পেয়েছেন ‘ঘৃণা ও হুমকি’। তাই এখন তিনি ওই প্রচেষ্টা বন্ধ করে দিয়েছেন।

ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আবারও আলোচনার আহ্বান জানানো হলেও ইরান বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি। বরং দেশটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সম্মান বজায় না থাকলে কোনো আলোচনাই সম্ভব নয়।

All Categories