তারল্য সংকটে দুই ব্যাংককে ২৫০০ কোটি টাকা সহায়তা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক
চলমান তারল্য সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক দুটি ইসলামী ব্যাংককে মোট আড়াই হাজার কোটি টাকা সহায়তা প্রদান করছে। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এসআইবিএল এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংককে এই সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে যা কোনো জামানত ছাড়াই সরাসরি দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ও সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিক জানিয়েছেন সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংককে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংককে ১ হাজার কোটি টাকা সরাসরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তিনি এই সহায়তাকে হাই-পাওয়ার্ড মানি হিসেবে বর্ণনা করেছেন যার অর্থ হলো বাংলাদেশ ব্যাংক এই টাকা ছাপিয়ে সরাসরি ব্যাংকগুলোকে সহায়তা দিচ্ছে।
গত বছরের আগস্টে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক খাতে সংস্কারের কাজ শুরু করে। নতুন গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের অধীনে এস আলম গ্রুপ নিয়ন্ত্রিত সাতটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। এর পর থেকেই ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোতে তীব্র তারল্য সংকট তৈরি হয় বিশেষত গুজবের কারণে আমানতকারীরা বড় অঙ্কের টাকা তুলে নিলে সংকট আরো গভীর হয়।
ব্যাংকগুলোর মধ্যে আন্তঃব্যাংক ঋণ সুবিধার মাধ্যমে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা তেমন কার্যকর হয়নি।২০২৪ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক ছয়টি ব্যাংককে মোট ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা প্রদান করে।
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংককে ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংককে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ব্যাংকগুলোর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক ৫ হাজার কোটি ইউনিয়ন ব্যাংক ২ হাজার কোটি, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ২ শত কোটি আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ১০ কোটি গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ২ হাজার কোটি এক্সিম ব্যাংক ৮ হাজার ৫০০ কোটি এবং এবি ব্যাংক ২ শত কোটি টাকা সহায়তা পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন এই পদক্ষেপে একদিকে টাকা ছাপিয়ে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক বিল এর মাধ্যমে কিছু অর্থ ফেরত নেওয়া হচ্ছে।ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট কাটাতে এই পদক্ষেপগুলো কতটা কার্যকরী হবে তা নিয়ে কিছু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই সংকট সমাধানে আরো বৃহৎ পরিসরে কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।