তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে ৩০০ ফিটে জনসমুদ্রের অপেক্ষা, উৎসবমুখর পরিবেশ
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে প্রত্যাশা করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রাজধানীর কুড়িলের ৩০০ ফিট এলাকায় গণসংবর্ধনার আয়োজন করেছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে লাখ লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে এই সংবর্ধনায়। ইতোমধ্যে সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন। অনুষ্ঠানস্থলের প্রস্তুতিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। সংবর্ধনা আয়োজনের জন্য ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতিও পেয়েছে বিএনপি।
আজ বুধবার থেকেই অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি দেখা গেছে। মঞ্চ ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশ থেকে আসা অনেক নেতাকর্মী আজই ঢাকায় পৌঁছাবেন। আর ঢাকা ও আশপাশের জেলার নেতাকর্মীরা বৃহস্পতিবার সকালেই বিমানবন্দর এলাকায় জড়ো হবেন।
বিএনপি নেতারা দাবি করছেন, সংবর্ধনায় অন্তত ৫০ লাখ মানুষের উপস্থিতি হতে পারে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এটি দলের শক্তি প্রদর্শনের বড় কর্মসূচি বলেও মনে করছেন তারা। সংবর্ধনা মঞ্চ পরিদর্শন শেষে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সংবর্ধনায় অর্ধকোটি মানুষের উপস্থিতি আশা করছি।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিমানবন্দর থেকে কুড়িলের ৩০০ ফিট এলাকা এবং গুলশান পর্যন্ত যাতায়াতপথে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংবর্ধনায় অংশ নিতে সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীরা ঢাকামুখী হচ্ছেন। ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থী এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারাও পুরো কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকবেন।
এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সারা দেশের ১০টি রুটে স্পেশাল ট্রেন চলবে। কক্সবাজার থেকে পঞ্চগড়, খুলনা থেকে রাজশাহীসহ দেশের প্রায় প্রতিটি প্রান্ত থেকে নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্পেশাল ট্রেন ও অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের মাধ্যমে আনুমানিক ৩৬ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হতে পারে। তবে নির্বাচনি আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ইতিহাস সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, ‘সারা দেশের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ অধীর আগ্রহে তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে অপেক্ষা করছেন। বৃহস্পতিবার ঢাকা জনসমুদ্রে পরিণত হবে।’
দলীয় সূত্র জানায়, দেশে ফেরার সার্বিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছেন তারেক রহমান। তিনি ট্রাভেল পাস হাতে পেয়েছেন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি–২০২০ ফ্লাইটে টিকিট বুকিং করেছেন। ফ্লাইটটি আজ বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ছয়টায় লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে বোয়িং ৭৮৭–৯ মডেলের উড়োজাহাজটি বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে। বিজনেস ক্লাসে তারেক রহমানসহ পাঁচজনের টিকিট বুকিং রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা জারনাজ রহমান।
দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাবেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। এরপর তিনি সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁর মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন। সেখান থেকে তিনি গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) আজ বুধবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য সাধারণ দর্শনার্থীদের বিমানবন্দরে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে।
সরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি বিএনপির নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থাও থাকবে। দলটির পক্ষ থেকে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হয়েছে। পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।
বিএনপির নেতারা বলছেন, ২০০৭ সালে ওয়ান–ইলেভেনের পর তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০০৮ সালে মুক্তি দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে যুক্তরাজ্যে পাঠানো হয়। দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তাঁর দেশে ফেরা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।