তাপসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, স্ত্রী–সন্তানসহ আয়কর নথি তলব
সংগীতশিল্পী ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল গানবাংলার চেয়ারম্যান কৌশিক হোসেন তাপসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ফারজানা মুন্নী ওরফে ফারজানা আরমান এবং তাঁদের সন্তানদের নামে থাকা আয়কর নথি সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ সাব্বির ফয়েজের আদালত এ আদেশ দেন। সিআইডির পক্ষে উপপুলিশ পরিদর্শক মেহেদী হাসান আবেদনটি করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আবেদনে বলা হয়, কৌশিক হোসেন তাপসের বিরুদ্ধে রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানায় হত্যাচেষ্টার একটি মামলা রয়েছে। ওই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে এ অভিযোগের অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। এ অবস্থায় তিনি দেশের বাইরে গেলে পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই তদন্তের স্বার্থে তাঁর বিদেশ যাওয়া ঠেকানো জরুরি বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
একই সঙ্গে তাপস, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের আয়কর নথি তলবের আবেদন জানানো হয়। আবেদনে বলা হয়েছে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে কৌশিক হোসেন তাপসের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ও দমন আইনে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য সংগ্রহে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো হলেও তাপস এবং তাঁর স্ত্রী–সন্তানদের নামে থাকা আয়কর নথি পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এসব নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর কৌশিক হোসেন তাপসকে আটক করা হয়। পরবর্তী সময়ে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময়ের হত্যার কয়েকটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সাত মাসের বেশি সময় কারাবন্দী থাকার পর ২০২৫ সালের জুন মাসে তিনি জামিনে মুক্তি পান। আদালতের সর্বশেষ আদেশে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত নতুন মাত্রা পেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।