টানা দরপতনে শেয়ার বাজার আতঙ্কে বিনিয়োগকারীরা

দেশের শেয়ারবাজারে টানা দরপতনে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন বিনিয়োগকারীরা। ভালো-মন্দ সব ধরনের শেয়ারের দাম একসঙ্গে পড়তে থাকায় পুঁজির বড় অংশ হারিয়ে আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের। লেনদেনের পরিমাণও নেমে এসেছে তলানিতে।

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪৯ পয়েন্টের বেশি কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৭২ পয়েন্টে। এ নিয়ে টানা ৯ কার্যদিবসে সূচক কমেছে ২২৯ পয়েন্ট। ডিএসইএক্স সূচক এখন ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে অবস্থান করছে।

এদিন লেনদেন হয়েছে মাত্র ৩৬৭ কোটি ১৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৯৮ কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ৫২টির, কমেছে ৩০০টির, আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৬টির।

অন্য সূচকগুলোর মধ্যেও দেখা গেছে পতন। ডিএসই শরিয়াহ সূচক কমেছে ১৬ পয়েন্ট, দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০৪ পয়েন্টে। আর ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক কমেছে ২২ পয়েন্ট, এখন অবস্থান করছে ১ হাজার ৮৪৫ পয়েন্টে। অপর স্টক এক্সচেঞ্জ চট্টগ্রামে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই কমেছে ৫৪ পয়েন্ট, দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৯৫৬ পয়েন্টে।

পুঁজিবাজারে এমন অবস্থায় হতাশ বিনিয়োগকারীরা বুধবার রাজধানীর মতিঝিলে বিক্ষোভ করেছেন। তারা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পদত্যাগ দাবি করেন।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, গত দুই মাসে বাজারে এমন দরপতন হয়েছে যে অনেকের বিনিয়োগ করা অর্থের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই কমে গেছে। এ অবস্থায় তারা প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান বলেন, শেয়ারবাজার নিয়ে এত হতাশা এর আগে কখনো দেখা যায়নি। কমিশন বাজারের মূল সমস্যা চিহ্নিত করতে পারছে না, তাই বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারাচ্ছেন।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজারে বড় কোনো ইতিবাচক অনুঘটক নেই। গত আগস্টে কমিশন পুনর্গঠনের পর আশাবাদী হলেও আট মাসে একটি কোম্পানিও তালিকাভুক্ত হয়নি। বরং সূচক কমে গেছে প্রায় ৮০০ পয়েন্ট।

বাজারের অচলাবস্থা নিয়ে ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক নুরুল ইসলাম মানিক বলেন, সংস্কার হচ্ছে এমন সংস্কার যে বাজার থেকে ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা উধাও হয়ে গেছে। অনেক ব্রোকার হাউজ শাখা বন্ধ করছে, কর্মী ছাঁটাই করছে।

একটি শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ হাউজের স্বত্বাধিকারী জানান, তার প্রতিষ্ঠানে এখন প্রতি মাসে ১৫ থেকে ১৭ লাখ টাকা লোকসান হচ্ছে। বলেন, “জুন পর্যন্ত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে অনেক শাখা বন্ধ করে দিতে হবে। কর্মী ছাঁটাইও করতে হবে।

তিনি জানান, তার হাউজে ২ হাজার ১২০টি বিও অ্যাকাউন্ট সক্রিয় থাকলেও প্রতিদিন লেনদেন হয় মাত্র ৮০ থেকে ৮৫টি অ্যাকাউন্টে। তার মতে, প্রতিদিন ডিএসইতে এখন ৩০ হাজারের বেশি বিনিয়োগকারী লেনদেন করাই বন্ধ করে দিয়েছেন।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইডিএলসি সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুদ্দিন বলেন, “আমাদের বাজারে বড় সমস্যা সুশাসনের অভাব। যেখানে বিনিয়োগ সুরক্ষা নেই, সেখানে বিনিয়োগকারীরা থাকবেন না।

বিনিয়োগকারীদের ক্ষোভের বিষয়ে বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, “বাজারের উন্নয়নে আমরা টাস্কফোর্স করে দিয়েছি। তারা গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। পুরো প্রতিবেদন পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিনিয়োগকারীদের প্রশ্ন প্রতিবেদন আসবে কবে, তত দিনে বাজার থাকবে তো?

All Categories