সুন্দরবনে আগুনের প্রকোপ কমছে,কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৬ ইউনিট

সুন্দরবনের তেইশের ছিলার শাপলার বিল এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা অন্তত আধা কিলোমিটারজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বাগেরহাট ও খুলনা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট নিরলসভাবে কাজ করছে।

খুলনা ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মতিয়ার রহমান জানান, কলমতেজী এলাকার আগুনের তুলনায় শাপলার বিলের আগুন আরও তীব্র। আগুন বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ছয়টি ইউনিট কাজ করছে। বর্তমানে পানি ছিটানোর কাজ শুরু হয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মোহাম্মদ নুরুল করিম জানান, "কলমতেজী টহল ফাঁড়ির আগুন নেভানোর কাজ চলার সময় শাপলার বিল এলাকায় নতুন করে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ড্রোন ও জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবহার করে আগুনের উৎস শনাক্ত করেন এবং দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

তিনি আরও বলেন,ঘটনাস্থলে এসে দেখা যায়, কিছু এলাকায় তীব্র আগুন জ্বলছে এবং কিছু জায়গা থেকে ঘন ধোঁয়া বের হচ্ছে। বনের ভেতরে হালকা বাতাস থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় গ্রামবাসী ও বন কর্মকর্তাদের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। এরপর পাইপের সাহায্যে পানি দেওয়া শুরু করা হয়েছে।

আগুনের ব্যাপকতার কারণে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি ঠিক কত একর বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কলমতেজীর মতো শাপলার বিলের আশপাশেও পানির উৎস তিন কিলোমিটার দূরে, যা আগুন নেভাতে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

এর আগে, শনিবার সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের কলমতেজী টহল ফাঁড়ি এলাকায় আগুন লাগে, যা ফায়ার সার্ভিস দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনে। তবুও সতর্কতার জন্য এলাকাটি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক দীপন চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বন কর্মকর্তা জানান, আমরা এখনো নিশ্চিত নই কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হলো বা ঠিক কতটুকু ক্ষতি হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

All Categories