শুল্ক কমানোর বিষয়ে আশাবাদী হতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক কমাতে আলোচনায় কার্যকর অগ্রগতি না থাকায় রপ্তানিকারকও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। বাণিজ্য বিশ্লেষক ও উদ্যোক্তারা বলছেন, সরকার শুরু থেকেই বেসরকারিখাতকে সম্পৃক্ত না করে এককভাবেআলোচনা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে।
গত ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের ৫৭টি দেশের পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেই শুল্কহার ছিল ৩৭ শতাংশ, যা পরে তিনমাসের জন্য স্থগিত করা হয়। তবে সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর থাকে। আগামী ১ আগস্ট থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হলে গড় শুল্ক হার দাঁড়াবে ৫০ শতাংশ, যা বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য মারাত্মক আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দুই দফা আলোচনার পরও বাংলাদেশ কোনো সুস্পষ্ট অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (USTR) সঙ্গে বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে আগে লুৎফে সিদ্দিকী ও পরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান নেতৃত্ব দেন। সর্বশেষ ৯ থেকে ১১ জুলাই শেখ বশিরউদ্দীনের নেতৃত্বে দল যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা করলেও, কোনো সুসংবাদ নিয়ে ফিরতে পারেনি। আলোচনার বিষয়বস্তুও "নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট" বা NDA-এর অজুহাতে গোপন রাখা হয়।
রপ্তানিকারকেরা বলছেন, সরকার সময়মতো লবিস্ট নিয়োগ কিংবা ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর পরামর্শ আমলে নেয়নি। বিজিএমইএসভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, মাত্র দুই দিন আগে সরকারের অনানুষ্ঠানিক অনুরোধে তারা দুটি লবিস্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে দেরিতে কাজ শুরু করায় ভালো লবিস্ট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, এই শুল্ক শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়, এরসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক স্বার্থও জড়িত। যুক্তরাষ্ট্র চায় বাংলাদেশ যেন চীনের দিকে ঝুঁকে না পড়ে এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলে। এর বাইরে শর্ত রয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া শুল্কমুক্ত সুবিধা যেন অন্য কোনো দেশ না পায়।