সরকারের সঙ্গে বসবে ,নির্বাচন কবে জানতে চাইবে বিএনপি
জাতীয় নির্বাচন ঘিরে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে আসা বক্তব্যে স্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা না থাকায় পরিস্থিতি ধোঁয়াশাপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে বিএনপি। এ অবস্থায় নির্বাচন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার ইস্যুতে সরকারের অবস্থান জানতে এবং নিজেদের মতামত জানাতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
গত সোমবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সিঙ্গাপুর থেকে অনলাইনেই অংশ নেন।
স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করতে মঙ্গলবার সময় চাওয়া হয়েছে। সাক্ষাতের পর নির্বাচন ও রোডম্যাপ নিয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবে বিএনপি। দলের পক্ষ থেকে একাধিক কর্মসূচির বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা এবং নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেসব সংস্কার প্রয়োজন, তা দ্রুত শেষ করা। বিএনপি মনে করে, এসব সংস্কার অধ্যাদেশ বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে করা সম্ভব। রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে বাকি সংস্কার পরবর্তী নির্বাচিত সংসদে তোলা যেতে পারে।
নেতারা আরও বলেন, দ্রুত নির্বাচন না হলে দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়বে। এতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে এবং জনমনে আস্থাহীনতা বাড়বে।
বিএনপি নেতারা বৈঠকে বলেন, তারা এই সরকারকে ইতোমধ্যেই সহযোগিতা করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে, সে কারণে বড় ধরনের আন্দোলনে না গিয়ে সরকারের কাছ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ আশা করছে দলটি। তারা আশা করছে, সরকার রাজনৈতিক বাস্তবতা ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন করবে।
বৈঠকে সংবিধান সংস্কার নিয়েও আলোচনা হয়। বিএনপি বলেছে, তারা ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনী পূর্ববর্তী সংবিধানের চার মূলনীতিতে ফিরে যেতে চায়। সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, ‘ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবর্তে “সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস”, সমাজতন্ত্রের পরিবর্তে সামাজিক ন্যায়বিচার, বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদই বিএনপির অবস্থান।
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি যেন ১৯৭২ সালের সংবিধানে ফিরতে চায়— এমন বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকাসহ সারা দেশে বর্ণাঢ্য আয়োজনে দেশীয় লোকজ সংস্কৃতি তুলে ধরা হবে। বিএনপি মনে করছে, দেশের সংস্কৃতিকে রক্ষা ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে তা ছড়িয়ে দিতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড জোরদার করা প্রয়োজন।
বৈঠকে ইসরায়েলের বর্বর হামলার নিন্দা জানিয়ে ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি সংহতি জানানো হয়। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খুব শিগগিরই রাজধানীতে একটি বড় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া ১২ এপ্রিল ঢাকায় আয়োজিত ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচিতে বিএনপি সংহতি জানাবে।
বৈঠকে আলোচনায় আসে বিদেশে অবস্থানরত ইউটিউবার পিনাকী ভট্টাচার্যের বিভিন্ন বক্তব্য ও নেতিবাচক মন্তব্য। কয়েকজন নেতা মনে করেন, এসব বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর। একই সঙ্গে দলের কিছু নেতার টকশোতে 'উল্টোপাল্টা' মন্তব্য নিয়েও অসন্তোষ জানানো হয় এবং এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে দিকনির্দেশনার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে।