শ্রীলঙ্কার মাটিতে প্রথম সিরিজ জয় বাংলাদেশের
কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে গর্জে উঠেছিল ‘শ্রীলঙ্কা শ্রীলঙ্কা’ ধ্বনি। তবে ৩৫ হাজার দর্শকের সেই উন্মাদনা চাপা পড়ে গেছে বাংলাদেশের দাপুটে পারফরম্যান্সে। সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় টি–টোয়েন্টিতে স্বাগতিকদের ৮ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে টাইগাররা। শ্রীলঙ্কার মাটিতে এটিই প্রথম কোনো টি–টোয়েন্টি সিরিজ জয় বাংলাদেশের।
শুধু তাই নয়, এটি বিদেশের মাটিতে লিটন দাসের নেতৃত্বে দ্বিতীয় সিরিজ জয়। এর আগে গত বছর ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। এ বছর আরব আমিরাত ও পাকিস্তানের কাছে সিরিজ হারার পর এই জয় টাইগারদের আত্মবিশ্বাস ফেরাল।
১৩৩ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম বলেই এলবিডব্লু হন পারভেজ হোসেন ইমন। কিন্তু লিটন দাস ও তানজিদ হাসান তামিম দ্বিতীয় উইকেটে ৭৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ইনিংসকে সামলে নেন। লিটন করেন ২৬ বলে ৩২ রান। যদিও ৮ রানে জীবন পেয়েছিলেন রিভিউ নিয়ে। তবে আসল নায়ক ছিলেন তামিম। ইনিংস শেষ করেন ৪৭ বলে অপরাজিত ৭৩ রানে। ইনিংসে ছিল ৫টি ছয় ও ১টি চার। এটিই তাঁর টি–টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ স্কোর।
তানজিদের সঙ্গে অপরাজিত ছিলেন তাওহিদ হৃদয় (২৭)। তাদের ব্যাটে ভর করেই ১৫ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে স্বাগতিকরা ১৩২ রানেই গুটিয়ে যায়। শেখ মেহেদি হাসান ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেন। ৪ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন তিনি। তাঁর করা চতুর্থ ওভারটি ছিল মেডেন, আর সেখানেই তুলে নেন অধিনায়ক চারিথ আসালঙ্কার উইকেট।
প্রথম স্পেলে ভালো বল করেন শরিফুল ইসলাম। শুরুতে পাথুম নিশাঙ্কার কাছ থেকে এক বাউন্ডারি খেলেও পরে শিকার করেন কুশল মেন্ডিসের উইকেট। পরে আরও এক উইকেট নেন শরিফুল। তানজিম হাসান সাকিব, মুস্তাফিজুর রহমান ও শামীম হোসেন নেন একটি করে উইকেট।
শ্রীলঙ্কা ইনিংসের মাঝপথে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের আঁটসাঁট বোলিংয়ের সামনে ব্যর্থ হন লঙ্কান ব্যাটাররা। পাথুম নিশাঙ্কা করেন সর্বোচ্চ ৪৬ রান। তবে ব্যাটিংয়ে অন্য কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে ক্যান্ডিতে হেরে পিছিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। ডাম্বুলায় দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সমতায় ফেরে। কলম্বোতে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচটি অলিখিত ফাইনালে রূপ নেয়। সেই ফাইনালে অলআউট ক্রিকেট খেলে সিরিজ ও ট্রফি নিজেদের করে নেয় লিটনরা।