শোভাযাত্রার নাম থেকে 'মঙ্গল' কেন বাদ ? জবাব চান চারুকলার শিক্ষার্থীরা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে পহেলা বৈশাখে বের হওয়া ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এবার এই শোভাযাত্রা আয়োজন করা হচ্ছে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামে।
তবে এই পরিবর্তন নিয়ে আপত্তি তুলেছেন চারুকলার শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, শিক্ষার্থী ও আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনা না করেই শোভাযাত্রার নাম বদলানো হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে তাঁরা বলছেন, এমন সিদ্ধান্তে উৎসবের মূল দর্শন ও ঐতিহ্য ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা। এতে বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্টমেকিং বিভাগের শিক্ষার্থী জাহারা নাজিফা বলেন, আমরা “মঙ্গল শোভাযাত্রা” নামটির পরিবর্তন মানি না। এই শোভাযাত্রা শুধু উৎসব নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি, প্রতিবাদ আর ঐতিহ্যের প্রতীক। নাম পরিবর্তনের যৌক্তিক ব্যাখ্যা আমাদের দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, এ বছর বৈশাখও শেকলমুক্ত নয়। “মঙ্গল” শব্দটি বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে, অথচ এই শব্দের মধ্যেই রয়েছে প্রতিরোধের শক্তি। আমাদের না জানিয়ে, মত না নিয়ে এভাবে নাম পরিবর্তন দুঃখজনক।
শোভাযাত্রার প্রস্তুতির সময় চারুকলা প্রাঙ্গণে দুটি মোটিফে আগুন লাগানোর ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির দাবিও জানান শিক্ষার্থীরা।
চারুকলার শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ১৯৮৯ সাল থেকে এই শোভাযাত্রার সূচনা হয় ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামে। পরে নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৬ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেয়।
নাম পরিবর্তনের ফলে ইউনেস্কোর স্বীকৃতির ওপর কোনো প্রভাব পড়বে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, মঙ্গল শব্দটি বাদ দেওয়ার পেছনে যদি কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে, তবে তা স্পষ্টভাবে জানানো হোক।
জাহারা নাজিফা বলেন, আমরা চাই সবাইকে নিয়ে উৎসব হোক। কিন্তু রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপে কোনো ঐতিহ্যের বিকৃতি হোক, তা মেনে নেওয়া যায় না। ভবিষ্যতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত যেন বিতর্ক তৈরি না করে, সে জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার প্রয়োজন রয়েছে।