সোমবার থেকে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতিতে প্রাথমিকের শিক্ষকরা
সহকারী শিক্ষক পদকে এন্ট্রি পদ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণসহ তিন দফা দাবিতে সোমবার (২৭ মে) থেকে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন তারা।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সংগঠন 'ঐক্য পরিষদ'-এর ডাকে ইতোমধ্যে এক ঘণ্টা, দুই ঘণ্টা ও অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালিত হয়েছে। রোববার শেষ হয়েছে অর্ধদিবস কর্মবিরতির ধাপ।
বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, “আমরা ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি পালন করে আসছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না আসায় বাধ্য হয়েই সোমবার থেকে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতিতে যাচ্ছি।”
তিনি জানান, শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকলেও শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নেবেন না।
শিক্ষকদের তিন দফা দাবি হচ্ছে— সহকারী শিক্ষক পদকে এন্ট্রি পদ হিসেবে ধরে ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ। চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা নিরসন। প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতিসহ দ্রুত পদোন্নতি প্রদান।
এ ছাড়া শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি বহাল রাখা এবং প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কেবল সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলছেন, এসব দাবি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। বারবার আশ্বাসের পরও কোনো বাস্তব অগ্রগতি না হওয়ায় তারা কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
শিক্ষকদের এই কর্মসূচিতে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলার শিক্ষকরা একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। এতে শ্রেণি কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে।