সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে ছিলাম, আছি এবং থাকব: মির্জা ফখরুল
বিএনপি সবসময়ই সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ক্ষমতায় থাকুক বা না থাকুক, বিএনপি গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। অন্যের মতামতকে অন্যায়ভাবে চাপিয়ে দেওয়াকে আমরা কখনোই সমর্থন করিনি, করবও না।
রোববার (৪ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে সম্পাদক পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় শুরু থেকেই অঙ্গীকারবদ্ধ। একদলীয় বাকশাল শাসনের সময় সংবাদপত্র বন্ধ ছিল। সেই সময় থেকে আমরা বহুদলীয় গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে লড়েছি।
আমরা নিখুঁত নই, কিন্তু আমাদের আমলেই দেশে প্রথম বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, আকাশ সংস্কৃতি, এবং স্বাধীন মিডিয়ার বিকাশ ঘটেছে। বিএনপির শাসনামলেই সাংবাদিকদের ওপর নিপীড়ন ছিল তুলনামূলকভাবে কম।
সাম্প্রতিক সময়ে মিডিয়ার সামনে বক্তব্য দিতে গিয়ে নিজেও আতঙ্ক অনুভব করেন বলে জানান বিএনপি মহাসচিব। মনে হয়, কথা বললেই কেউ না কেউ সেটাকে বিকৃত করবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যেভাবে চরিত্র হননের চেষ্টা চলে, তা গভীর উদ্বেগজনক।
বিএনপির বিরুদ্ধে ‘সংস্কার বিরোধিতার’ অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে ফখরুল বলেন, আমরাই একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় ব্যবস্থায় গিয়েছি, সংসদীয় পদ্ধতি চালু করেছি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছি। সেই বাস্তবতা ভুলিয়ে আমাদের প্রশ্নবিদ্ধ করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র মানে ভিন্ন মতের সহাবস্থান। কেউ যদি মনে করে শুধুই তার মতটাই সঠিক, সেটা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। সংবাদমাধ্যমেরও উচিত সকল মতামত তুলে ধরা।
আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি মাহফুজ আনাম। সঞ্চালনায় ছিলেন বণিক বার্তার সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।
আলোচনায় আরও অংশ নেন নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, জাতীয় নাগরিক কমিটির নাহিদ ইসলাম, নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবির, মানবজমিনের মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলোর মতিউর রহমান, সমকালের শাহেদ মুহাম্মদ আলী, ইনকিলাবের এ এম এম বাহাউদ্দিন প্রমুখ।