সিরিয়ার ওপর সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
দীর্ঘ ১৪ বছর পর সিরিয়ায় নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটির ওপর থেকে সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (২৪ মে) ওয়াশিংটন এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়।
এক বিবৃতিতে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, সিরিয়া এখন শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল একটি দেশ হতে হবে। আজকের এই সিদ্ধান্ত দেশটির ভবিষ্যৎ আরও ভালো করে তুলবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের অনুরোধে সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে সিরিয়ার নতুন সরকার এখন বিদেশি বিনিয়োগ গ্রহণ করতে পারবে। তবে এর জন্য কিছু শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—সিরিয়া কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিতে পারবে না এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়াও সিরিয়ায় ব্যবসা-বিনিয়োগ, খনিজ সম্পদ, বিশেষ করে তেল ও গ্যাস খাতে লেনদেন এবং পূর্বে নিষিদ্ধঘোষিত কিছু সংস্থার সঙ্গে বৈধভাবে কাজ করার সুযোগও তৈরি হয়েছে।
২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলে দেশটির সঙ্গে সব ধরনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বন্ধ করে দিয়েছিল ওয়াশিংটন।
তবে আসাদ সরকারের পতনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পথে হাঁটছে সিরিয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত শুধু সিরিয়ার জন্যই নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।