শিলং প্রস্তুত হামজাদের বরণে: উদযাপনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত
পাহাড়ের কোলে ঘেরা এক অপরূপ দৃশ্য যেখানে আধুনিক স্পোর্টস স্টেডিয়ামের উজ্জ্বল আলো জ্বলছে। একসময় এই মাঠটি ছিল শিলংবাসীদের পরিচিত পোলো গ্রাউন্ড যেখানে ব্রিটিশ আমলে ঘোড়ার পিঠে খেলানো হতো পোলো। তবে গত এক দশকে মেঘালয়ের শিলং শহরে ফুটবলের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। পরিবর্তনের শুরু ২০১০ সালে যখন পোলো গ্রাউন্ডে অ্যাস্ট্রোটার্ফ বসানো হয় এবং দোতলা গ্যালারির একটি অংশে ছাদ সংযোজন করা হয়। তখন থেকেই শিলং প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচগুলো সেখানে অনুষ্ঠিত হতে থাকে।
এটি ছিল শুধু স্থানীয়দের জন্য নয় বরং শহরের ফুটবল প্রেমিকদের জন্য বড় এক অগ্রগতি। পর্যায়ক্রমে শহরটির এই স্টেডিয়ামটি আন্তর্জাতিক ফুটবলের জন্যও প্রস্তুত হয়ে ওঠে। স্টেডিয়ামের নামকরণ করা হয় জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম এবং এখানেই অনুষ্ঠিত হতে থাকে আই লিগের নিয়মিত ম্যাচগুলো।পূর্বাঞ্চলে আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের জন্য শিলং এতদিন কাঙ্ক্ষিত সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল এবং কলকাতায় ভারতের জাতীয় ফুটবল দলের ম্যাচই নিয়মিত অনুষ্ঠিত হতো।
তবে এবার এক বিরল সুযোগ আসছে শিলংয়ের জন্য। এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে বাংলাদেশ ও ভারতের ম্যাচটি প্রথমবারের মতো শিলংয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনই এই ম্যাচ শিলংয়ে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যেখানে শিলংবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
শিলংয়ের দৈনিক পত্রিকা শিলং টাইমস জানায় মাঠটি ইতোমধ্যেই প্রস্তুত এবং ভারতীয় ফুটবল দল শহরে পৌঁছে গেছে। আসন্ন ১৯ মার্চ শিলংয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে মালদ্বীপের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবল মাঠে গড়াতে চলেছে। এই ম্যাচটি পরবর্তী দিন ২০ মার্চ বাংলাদেশ দলের আগমনের জন্য প্রস্তুতি নিতে সহায়ক হবে।
মেঘালয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হামেলস্টন দোলিং এই বিষয়ে বলেন,এই অঞ্চলের মানুষদের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত কারণ তারা প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ দেখার সুযোগ পাচ্ছে। ম্যাচ দুটি নিয়ে তাদের মধ্যে এক অনাবিল উচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়েছে।তবে তিনি জানিয়ে দেন টিকিটের চাহিদা অত্যন্ত বেশি যা হয়তো পূরণ করা সম্ভব হবে না।
শিলংবাসীদের মধ্যে এই ম্যাচগুলো নিয়ে বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু দুটি বিষয়। একদিকে ভারতের ফুটবল তারকা সুনীল ছেত্রির অবসর ভেঙে ফেরার কথা আর অন্যদিকে বাংলাদেশের ফুটবল দলেও ইংলিশ ক্লাবের খেলোয়াড় হামজা চৌধুরীর উপস্থিতি। এই দুটি বিষয়েই স্থানীয়রা ব্যাপক আগ্রহ ও উত্তেজনা দেখাচ্ছেন।
শিলংয়ের ফুটবল ভক্তরা ২০ মার্চ বাংলাদেশ দলকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত আর তাদের আশা এই আন্তর্জাতিক ম্যাচের মাধ্যমে শহরের ফুটবল সংস্কৃতি আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে।