শিক্ষকদের বাড়িভাড়া ৫ শতাংশ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি

টানা আট দিন ধরে আন্দোলনরত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীদের জন্য নতুন করে বাড়িভাতা নির্ধারণ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে, তবে সর্বনিম্ন দুই হাজার টাকা বাড়িভাড়া ভাতা প্রদান করা হবে।

রোববার অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগের উপসচিব মরিয়ম মিতুর সই করা এ–সংক্রান্ত একটি চিঠি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে এ ভাতা কার্যকর করবে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সরকারের বিদ্যমান বাজেটের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে (সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা) নির্ধারণ করা হলো। এ আদেশ ২০২৫ সালের নভেম্বর মাস থেকে কার্যকর হবে।

তবে এ বাড়িভাড়া প্রদানে কিছু শর্তও যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ভাতাটি পরবর্তীতে জাতীয় বেতনস্কেল অনুযায়ী সমন্বয় করতে হবে। নিয়োগপ্রাপ্তদের অবশ্যই ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক–কর্মচারী এমপিও নীতিমালা’ অনুসারে নিয়োগের শর্ত পূরণ করতে হবে।ভাতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে শিক্ষক–কর্মচারীরা কোনো বকেয়া প্রাপ্য হবেন না। ভাতা প্রদানে সব ধরনের আর্থিক বিধি–বিধান মানতে হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তকে ‘প্রাথমিক বিজয়’ হিসেবে দেখছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন,

‘৫ শতাংশ বাড়িভাড়ার প্রজ্ঞাপন আমাদের আন্দোলনের প্রাথমিক বিজয়। কিন্তু ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, ১৫০০ টাকা মেডিকেল ভাতা ও ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতার প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে।’

প্রসঙ্গত, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীদের সমান সুবিধার দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। চলমান আন্দোলনে তাদের প্রধান দাবি হলো শিক্ষা জাতীয়করণ, ভাতা ও সুযোগ–সুবিধার উন্নয়ন।

All Categories