শেখ হাসিনার রায় ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা, কমেছে যান চলাচল
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আজ সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীর সড়কে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসমুখী যাত্রীরা। একই সঙ্গে রায়কে সামনে রেখে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা।
সকাল আটটার দিকে শিক্ষাভবন থেকে জাতীয় ঈদগাহমুখী সড়কে গিয়ে দেখা যায়, ব্যারিকেড বসিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে পুলিশ। প্রবেশপথে ছিল কড়া তল্লাশি। ব্যাগ তল্লাশির পাশাপাশি প্রতিটি গাড়ি থামিয়ে যাচাই করা হচ্ছিল। আদালত এলাকায় সাঁজোয়া যানসহ সেনা সদস্যদের অবস্থানও ছিল চোখে পড়ার মতো।
এর পরের চেকপোস্টগুলোয় দায়িত্ব পালন করছিল র্যাব ও পুলিশের বিশেষ শাখা।
১৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার দিন ঠিক করার পর থেকেই রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণসহ নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এসব ঘটনার জন্য দায়ী সংগঠনের বিরুদ্ধেও কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাজধানীর বাংলামটর থেকে যমুনা ফিউচার পার্ক অভিমুখী রাস্তা, মৎস্যভবন, প্রেসক্লাব, কদম ফোয়ারা ও কারওয়ান বাজার এলাকায় সকালে বাড়তি তৎপরতা দেখা যায়। তবে নিরাপত্তা জোরদার থাকলেও অধিকাংশ সড়ক ফাঁকা ছিল।
মিরপুর থেকে সদরঘাটমুখী বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন চাকরিজীবী জালিজ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দিনে অগ্নিসংযোগ আর ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনায় মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি হয়েছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হচ্ছেন না। তাই বাসও কম পেয়েছি। প্রায় আধা ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছি।’
আরেক যাত্রী আরাফাত রহমান বলেন, ‘যানবাহন কম থাকলেও শহর অস্বাভাবিকভাবে ফাঁকা। অফিসসময়ের সেই চিরচেনা ভিড় আজ নেই।’
এদিকে ট্রাইব্যুনালের সামনে বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ মানুষ জড়ো হয়ে শেখ হাসিনার বিচার দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন।