সীমান্তে গোলাগুলির জেরে এবার স্থগিত আইপিএল
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাব এবার গিয়ে পড়েছে ক্রীড়াঙ্গনে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে চলমান ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই-এর এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ক্রিকবাজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে আইপিএলে অংশ নেওয়া বিদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। বিশেষ করে তারা নিজেদের চলাফেরা ও যাতায়াত নিরাপদ কিনা, তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
গত বৃহস্পতিবার রাতে ধর্মশালায় দিল্লি ক্যাপিটালস ও পাঞ্জাব কিংসের মধ্যকার ম্যাচ চলাকালীন প্রথম ইনিংসের মাঝপথে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। তবে কিছুক্ষণ পরই নিরাপত্তাজনিত সতর্কতার কারণে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর খেলোয়াড়, দলীয় কর্মকর্তা, সম্প্রচারকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে গোপনীয়তার সঙ্গে নয়াদিল্লিতে সরিয়ে নেওয়া হয়।
শুক্রবার সকালে ধর্মশালার হোটেল থেকে সংশ্লিষ্টদের বাসে ওঠার নির্দেশ দেওয়া হলেও, তাদের গন্তব্য বা পরবর্তী যাত্রাপথ সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি। বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ৩৩ মিনিটে প্রকাশিত ক্রিকবাজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্টরা তখনও বাসে অবস্থান করছিলেন।
আইপিএলের বাকি ম্যাচগুলো ভিন্ন ভেন্যুতে সরিয়ে আনার প্রস্তাবও আলোচিত হয়েছিল বিসিসিআইয়ের বৈঠকে। তবে সব সম্ভাবনা বিবেচনার পর টুর্নামেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ক্রিকেটবিষয়ক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, আইপিএল স্থগিতের বিষয়ে খুব শিগগিরই বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।
আইপিএল সভাপতি অরুণ ধুমাল জানান, “আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অংশীদারদের স্বার্থ ও কৌশলগত দিকগুলো বিবেচনা করেই আমরা সামনে এগোবো।”
উল্লেখ্য, ধর্মশালার বাতিল হওয়া ম্যাচসহ এবারের আসরে এখন পর্যন্ত ৫৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গ্রুপ পর্বে আরও ১২টি ম্যাচ খেলার কথা ছিল।