সবজির দাম চড়া, সয়াবিন তেলে ঘাটতি
ঈদের আগের তুলনায় ঈদের পর রাজধানীর বাজারে সবজির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বেশিরভাগ সবজি এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে, যা আগে ছিল ৪০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে। এদিকে, সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট দেখা দেওয়ায় কিছু দোকানে বোতলের গায়ে লেখা নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি লিটারে ৫ টাকা বেশি নিতে দেখা গেছে।
শুক্রবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর, হাতিরপুল ও অন্যান্য বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
বিক্রেতারা বলছেন, বর্তমানে চাহিদার তুলনায় বাজারে সবজির সরবরাহ কম। শীতকালীন সবজি শেষ হয়ে গেছে, আর গ্রীষ্মকালীন সবজির সরবরাহ এখনো পর্যাপ্ত হয়নি। ফলে বাজারে প্রভাব পড়েছে।
মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজারে দেখা যায়, আধা কেজি বরবটি ও করলা ১০০ টাকায় কিনেছেন একজন গ্রাহক। বেসরকারি চাকরিজীবী মো. মাইনু বলেন, ‘ঈদের আগে সবজি ছিল ৬০ টাকার মধ্যে। এখন প্রায় ২০ টাকা বেড়েছে।’
এ ছাড়া খুচরা পর্যায়ে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা হয়েছে। তবে চাল, আলু, আদা ও রসুনের দাম আগের মতোই রয়েছে।
সয়াবিন তেলের বাজারেও দেখা যাচ্ছে সংকট। অনেক দোকানে তেল নেই। যেসব দোকানে আছে, সেখানেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে এক ও দুই লিটারের বোতল মিলছে না। আবার কোথাও কোথাও প্রতি লিটারে ১৭৫ টাকার তেল ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
হাতিরপুল বাজারের বিক্রেতা নাহিদ আহসান বলেন, কোম্পানি ঈদের পর থেকে অর্ডার নিচ্ছে না। আমরা বাইরে থেকে ৫ টাকা বেশি দিয়ে তেল কিনে আনছি।
আরেক বিক্রেতা বলেন, ‘আজ প্রথম এক কোম্পানি তেল দিয়েছে। দিয়েছে মাত্র তিন কার্টন দুই লিটারের বোতল। বলেছে, নতুন রেট না আসা পর্যন্ত আর মাল দেবে না।
ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানার মালিকদের সংগঠন চলতি মাসের শুরুতে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৯৩ টাকা করার প্রস্তাব দেয়। তবে এখন পর্যন্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে দাম বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দুই দফা বৈঠক হলেও বিষয়টি অনিশ্চিত রয়েছে।