শব্দের অর্থ উদ্ধার করলেই ১২ কোটি টাকা পুরস্কার
পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের মহেঞ্জোদারো, যা হাজার হাজার বছরের পুরোনো সিন্ধু সভ্যতার অন্যতম নিদর্শন। সেখানকার দেয়ালে আঁকা কিছু অদ্ভুত চিত্রের মাঝে লুকিয়ে আছে এক অমীমাংসিত রহস্য। মাছ, মাথাহীন মানবাকৃতি, বাগানের নিড়ানি থেকে শুরু করে নানা ধরনের ছবি, যা এক সময় নিছক কাঁচা আঁকা বলে মনে হলেও, এগুলো আসলে সিন্ধু সভ্যতার প্রাচীন লিপি। তবে এত বছর পরও এই লিপির অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এই লিপি নিয়ে চলছে তীব্র বিতর্ক এবং এর অর্থ উদ্ধার করতে বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব ও সরকারের পক্ষ থেকে পুরস্কার ঘোষণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি, ভারতের একটি রাজ্য সরকার এই লিপির অর্থ উদ্ধার করার জন্য ১০ লাখ ডলার পুরস্কারের ঘোষণা করেছে। এ লিপির অর্থ উদ্ধার হলে, ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় খুলে যেতে পারে, যার মাধ্যমে প্রাচীন সভ্যতা সম্পর্কে অনেক অজানা প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেতে পারে।
বিখ্যাত অধ্যাপক রাজেশ পি. এন. রাও বলেন, “এই লিপির অর্থ যদি পুনরুদ্ধার করা যায়, তবে ব্রোঞ্জ যুগের এক উন্নত সভ্যতার সন্ধান পাওয়া যেতে পারে। যেখানে ছিল উন্নত নগর-পরিকল্পনা, মানসম্মত ওজন-পরিমাপ ব্যবস্থা এবং বিস্তৃত বাণিজ্য পথ।”
এছাড়া, লিপির ব্যাখ্যা সিন্ধু উপত্যকার প্রাচীন জনগণের পরিচয় সম্পর্কে মৌলিক তথ্য দিতে পারে এবং আধুনিক ভারতের রাজনৈতিক বিতর্কের নিরসন করতে সাহায্য করতে পারে।
১৮৭৫ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় এই লিপির নমুনা। তবে এত দীর্ঘ সময়ে কেন অর্থ উদ্ধার সম্ভব হয়নি? গবেষকরা মনে করেন, নমুনাগুলোর সঙ্কীর্ণতা এবং বিশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় যথেষ্ট উপাদান না পাওয়াই এর কারণ। সেই সঙ্গে, রোসেটা শিলার মতো কোনো দ্বিভাষিক নিদর্শন পাওয়া যায়নি, যা লিপির অর্থ উদ্ধারে সহায়ক হতে পারত।
তবে, সিন্ধু লিপির কিছু চিহ্নের অর্থ সম্পর্কে গবেষকরা কিছু ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, লিপিটি ডান থেকে বাম দিকে লেখা হতো এবং ধর্মীয় ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হতো।
এদিকে, সিন্ধু সভ্যতার অন্যান্য নিদর্শন থেকে জানা গেছে, তাদের শহর পরিকল্পনা ছিল আধুনিক ইউরোপীয় শহরের মতো। উন্নত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং পানি ব্যবস্থাপনা ছিল তাদের সাফল্যের এক বড় দিক।
সিন্ধু সভ্যতার পতন ঘটে ১৮০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে, যা জলবায়ু পরিবর্তন এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও খরার কারণে হয়েছিল।
তবে, এই প্রাচীন সভ্যতার লিপির অর্থ উদ্ধার হলে ইতিহাসের অনেক অজানা দিক উন্মোচিত হতে পারে।