সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই: জামায়াতের আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পেলে ইনশা আল্লাহ সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করব। সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে আমরা এগিয়ে নিতে চাই। জাতি–ধর্মনির্বিশেষে সবার প্রতি ইনসাফ কায়েম করা হবে। বিচারব্যবস্থায় ইনসাফ কায়েম হলে দেশের উন্নতি ত্বরান্বিত হবে। আমরা স্বাস্থ্য খাতের উন্নতি করতে চাই। আমরা ক্ষমতায় গেলে মানসম্মত স্বাস্থ্যনীতির মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের উন্নতি করব।’

আজ শনিবার বিকেলে সিরাজগঞ্জ ইসলামিয়া সরকারি কলেজ মাঠে ১০–দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে জামায়াতের আমির এ কথা বলেন। পরে তিনি সিরাজগঞ্জের ৬টি আসনে জামায়াত ও ১০–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন। পরে উল্লাপাড়ায় নির্বাচনী পথসভায় অংশ নেন তিনি।


জামায়াতের আমির বলেন, ‘সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর ভাঙনে মানুষ প্রতিবছর সর্বস্বান্ত হয়। আমরা ক্ষমতায় গেলে যমুনা নদী খনন করব। যমুনার বাঁধকে শক্তিশালী করব। যমুনা নদী শাসনের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জের উন্নতি করব। আমরা সরকার গঠন করলে এ জেলার তাঁতশিল্পকে আবার জীবন্ত করা হবে। তাঁতসমৃদ্ধ সিরাজগঞ্জের দুঃখ-দুর্দশাগ্রস্ত শ্রমিকদের উন্নয়নে কাজ করব।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকার দেশের চাহিদা পূরণের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার গুঁড়া দুধ বিদেশ থেকে আমদানি করেছে। অথচ আমরা সংবাদমাধ্যমে দেখেছি, এই জেলার দুগ্ধ খামারিরা দুধের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে দুধ রাস্তায় ঢালছেন। সরকার তাঁদের উপহাস করছে। আমরা সিরাজগঞ্জের দুগ্ধ উৎপাদন করে সরাসরি ঢাকায় না পাঠিয়ে এই জেলাতেই আধুনিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করে গুঁড়া দুধে রূপান্তর করে সারা দেশের চাহিদা পূরণ করব ইনশা আল্লাহ। এতে এই জেলায় ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’

 

জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় গেলে অনিয়ম-দুর্নীতি, চুরি, চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেব না। কেউ চাঁদাবাজি করলে তাদের শিকড় উপড়ে ফেলব। আমরা দুর্নীতি করব না, কাউকে দুর্নীতি করতেও দেব না। আপনারা দুর্নীতিবাজদের বয়কট করুন। এবারে নির্বাচনে আপনারা চাঁদাবাজদের বয়কট করুন।’

নারীদের নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘জামায়াতসহ ১০–দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে নারীদের ঘরে-বাইরে-কর্মস্থলে সুরক্ষা দেব। নারীদের উন্নয়নে কাজ করব। যাঁরা নারীদের নিয়ে মিথ্যা মায়াকান্না করেন, তাঁরাই নারীদের ক্ষতি করে থাকেন।’

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘“হ্যাঁ”-এর পক্ষে ভোট দিলে ওসমান হাদী হত্যার বিচার সম্ভব হবে। জুলাইয়ের শহীদদের সুবিচার নিশ্চিত করা যাবে। যারা ‘না’ ভোটের পক্ষে থাকবে, তারা আধিপত্যবাদের দালাল হিসেবে চিহ্নিত হবে। এবারের নির্বাচনে আধিপত্যবাদীদের লাল কার্ড দেখাতে হবে।’

All Categories