সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার কমল

সরকার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমিয়েছে। গতকাল অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। আজ (১ জুলাই) থেকে নতুন এই হার কার্যকর হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফার হার কমে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন হার ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ হয়েছে। মুনাফার হার বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। সাত লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকার কম বিনিয়োগে তুলনামূলক বেশি এবং এর বেশি বিনিয়োগে কম মুনাফা পাবেন বিনিয়োগকারীরা।

বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রে নতুন মুনাফার হার নিয়ে সরকার প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিত জানায়—

পরিবার সঞ্চয়পত্র

সাড়ে সাত লাখ টাকার কম বিনিয়োগে ১২.৫০ শতাংশ থেকে কমে ১১.৯৩ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১২.৩৭ শতাংশ থেকে কমে ১১.৮০ শতাংশ হয়েছে।

পেনশনার সঞ্চয়পত্র

সাড়ে সাত লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফা কমে ১১.৯৮ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১১.৮০ শতাংশ করা হয়েছে।

পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র

সাড়ে সাত লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফা ১১.৮৩ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১১.৮০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র

কম বিনিয়োগে মুনাফা ১১.৮২ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১১.৭৭ শতাংশ রাখা হয়েছে।

ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক মেয়াদী হিসাব

তিন বছর মেয়াদে সাড়ে সাত লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফা ১১.৮২ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১১.৭৭ শতাংশ হয়েছে।

তবে ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড ও ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের সাধারণ হিসাবের মুনাফার হার অপরিবর্তিত থাকবে।

সরকার জানিয়েছে, আগামী ছয় মাস পর আবারও সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পর্যালোচনা ও পুনর্নির্ধারণ করা হবে।

১ জুলাইয়ের আগে ইস্যু হওয়া সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে পুরনো মুনাফার হার প্রযোজ্য থাকবে। তবে পুনর্বিনিয়োগ করলে পুনর্বিনিয়োগের সময়ের মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে।

সরকারের এই সিদ্ধান্ত অর্থনীতির সামগ্রিক আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য ও ঋণ ব্যবস্থাপনার অংশ বলে জানানো হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মূল্যস্ফীতির সময়ে মধ্যবিত্ত ও সঞ্চয়পত্র নির্ভর পরিবারের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

All Categories