সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার রয়েছে : ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এবার মুখ খুললেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ধরনের পদক্ষেপ বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
শনিবার দিবাগত রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইস্পাহান—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা। হামলার পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আব্বাস আরাগচি কড়া ভাষায় তীব্র নিন্দা জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা চালিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একজন স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই জাতিসংঘ সনদ, আন্তর্জাতিক আইন এবং পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি—এনপিটি লঙ্ঘন করেছে।
আব্বাস আরাগচি আরও বলেন, ইরান তার সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ এবং জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার রাখে। যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসন শুধু ইরানের বিরুদ্ধে নয়, গোটা আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তির ওপর আঘাত।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি এটিকে ‘অসাধারণ সামরিক সাফল্য’ বলে উল্লেখ করেন।
তবে তেহরান বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে রয়েছে। তাই এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী এবং ভিত্তিহীন।