সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দিয়ে জামায়াতের সমাবেশের প্রথম পর্ব শুরু

রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ শনিবার সকালে কোরআন তেলাওয়াত ও হামদ-নাত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশের প্রথম পর্ব শুরু হয়েছে। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে জাতীয় সমাবেশের মঞ্চে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠানিকতা।

মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে দুপুর ২টায়। এতে সভাপতিত্ব করবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

সমাবেশ ঘিরে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা-কর্মীদের ঢল নামে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উদ্যান ছাড়িয়ে আশপাশের সড়কজুড়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে শত শত বাস। এসব বাসে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত জামায়াতের নেতা-কর্মীরা এসেছেন। অনেকে জামায়াতের লোগোসংবলিত টি-শার্ট পরে আছেন, কারও মাথায় বাঁধা দলীয় ফিতা, কারও হাতে জাতীয় পতাকা ও দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’।

জামায়াত নেতারা দাবি করেছেন, এই সমাবেশ হবে দলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জনসমাগমের আয়োজন। তাদের ভাষায়, এ সমাবেশের মাধ্যমে রাজনীতির মাঠে ‘নতুনভাবে আলোড়ন’ সৃষ্টি করতে চায় দলটি। আমির ডা. শফিকুর রহমান নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে ‘গণহত্যার বিচার ও সংস্কার শেষে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন’ এবং ‘২৪ জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের চেতনার ভিত্তিতে জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা’ বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বার্তা দেবেন।

সমাবেশের মূল মঞ্চে থাকবেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, কর্মপরিষদ সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং ‘জুলাইয়ের শহীদ’ পরিবারের প্রতিনিধিরা।

জামায়াতের সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটি সূত্রে জানা গেছে, সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ সারা দেশে দৃষ্টিনন্দন তোরণ, বিশাল আকৃতির ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য ছাউনি, চিকিৎসা সহায়তা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জসহ আশপাশের জেলা ও মহানগর এলাকা থেকে লাখো মানুষ অংশ নিচ্ছেন।

সমাবেশের জন্য তৈরি করা হয়েছে ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩৬ ফুট প্রস্থের মঞ্চ। মঞ্চে রয়েছে এলইডি স্ক্রিন, অতিথিদের জন্য বসার সুব্যবস্থা এবং অন্যান্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা।

জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, আমিরসহ শীর্ষ নেতারা দেশব্যাপী গণসংযোগ, প্রস্তুতি সভা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে এসেছেন। সমাবেশে অংশ নিতে প্রায় ১০ হাজার বাস ও কয়েক জোড়া ট্রেন রিজার্ভ করা হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চল থেকে বহু নেতা-কর্মী শুক্রবার লঞ্চে ঢাকায় পৌঁছেছেন।

ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দল ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী নেতাদেরও সমাবেশে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। জামায়াতের লক্ষ্য—এই সমাবেশে ১৫ লাখ মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করা।

রাজনীতিতে নতুন করে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে এই আয়োজন করছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতারা বলছেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এটাই তাদের প্রথম একক বড় সমাবেশ।

All Categories