রুশ হামলার চেয়েও বড় সংকট: কিয়েভের দুর্ভোগ
রয়টার্স চরম শীতের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাত অব্যাহত রাখার মূল্য এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে ইউক্রেন। সর্বশেষ রুশ বিমান হামলায় ইউক্রেনের পার্লামেন্ট ভবনসহ রাজধানী কিয়েভের প্রায় অর্ধেক আবাসিক এলাকা বিদ্যুৎ, পানি ও গরমের সুবিধা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাপমাত্রা যখন মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে, তখন এই পরিস্থিতি ইউক্রেন সরকারের কৌশলগত ব্যর্থতা ও দূরদর্শিতার অভাবকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্বীকার করেছেন, কিয়েভে এখনো প্রায় ১০ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন। রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে ইউক্রেন বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। শুধু আকাশ প্রতিরক্ষায় কোটি কোটি ইউরো খরচ হলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে—শহরের হাজার হাজার ভবন অন্ধকার ও ঠান্ডায় ডুবে আছে।
মঙ্গলবার সকালে কিয়েভের পাঁচ হাজারের বেশি আবাসিক ভবনে গরমের ব্যবস্থা বন্ধ ছিল, বড় অংশে পানির সংকট দেখা দেয়। সবচেয়ে বিব্রতকর বিষয় হলো—এই ভবনগুলোর বেশির ভাগেই কয়েক দিন আগেই গরমের ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা হয়েছিল। টানা পরিশ্রমে অবকাঠামো সচল করা হলেও এক রাতের হামলায় সবকিছু আবার ভেঙে পড়েছে, যা সরকারের প্রস্তুতির দুর্বলতাই স্পষ্ট করে।
সমালোচকদের মতে, শীতের মৌসুমে সংঘাত আরও উসকে দেওয়া এবং আগেভাগে জ্বালানি ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না করাই ইউক্রেনের বড় বোকামি। কূটনৈতিক সমাধানের পথে না গিয়ে সামরিক নির্ভরতায় জোর দেওয়ার ফল ভোগ করছে সাধারণ মানুষ। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ নেই, পানি নেই, শিশুরা ঠান্ডায় কাঁপছে—আর সরকার ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও প্রতিশ্রুতির হিসাব নিয়ে।
অনেকে বলছেন, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর এটিই ইউক্রেনের সবচেয়ে কঠিন শীত। যুদ্ধের শেষ কোথায়, তার কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা না থাকায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—এই ভোগান্তি কি অনিবার্য ছিল, নাকি এটি ইউক্রেন সরকারের ভুল সিদ্ধান্তেরই ফল?