রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল রানা এবং স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ রোববার বেলা ১১টার পর ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ।
রায় ঘোষণার আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সোহেল রানা (৩১) ও স্বপ্না খাতুনকে (২৬) আদালতে আনা হয়। প্রথমে তাঁদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। পরে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা এ ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় রায় ঘোষণা করা হলো। ট্রাইব্যুনালে পাঁচটি শুনানিতে বিচারকাজ শেষ হয়। গত ১ জুন অভিযোগ গঠন করা হয়। পরদিনই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ৪ জুন যুক্তিতর্ক শেষে রাষ্ট্রপক্ষ দুই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি ছিল, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও জেরার মাধ্যমে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ যুক্তি দেয়, অভিযোগপত্র মূলত প্রধান আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কথিত অস্ত্রের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়নি। তারা সাজা লঘুর আবেদন জানায়।
আইনজীবীদের মতে, ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারে এত দ্রুত রায় ঘোষণার নজির সাম্প্রতিক সময়ে বিরল।
গত ১৯ মে পল্লবী এলাকার একটি বাসা থেকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন তাঁর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় প্রতিবেশী সোহেল রানা, তাঁর স্ত্রী স্বপ্না খাতুন এবং অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, সোহেল রামিসাকে নিজের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে তাঁকে হত্যা করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য, অপরাধ গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহ টুকরো করারও চেষ্টা করা হয়েছিল।
গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক ওহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা ও আলামত নষ্টের অভিযোগ আনা হয়। স্বপ্নার বিরুদ্ধে আনা হয় আলামত নষ্ট, মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং অপরাধে সহায়তার অভিযোগ। অভিযোগপত্র গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা পর মামলাটি ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন আদালত।