রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ধারাবাহিক ককটেল বিস্ফোরণ
রাজধানীতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক তিনটি স্থানে অন্তত সাতটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার গভীর রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডি এলাকায় এসব বিস্ফোরণ ঘটে।
ঘটনাগুলোর কোনোটিতেই হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, একই ধরণের এই হামলাগুলোর পেছনে জড়িতদের শনাক্তে একাধিক সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ এই নাশকতার দায় স্বীকার করেনি।
রোববার দিবাগত রাত পৌনে ৪টার দিকে মিরপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়।
মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমান বলেন, ‘রাত পৌনে ৪টার দিকে গ্রামীণ ব্যাংকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কেউ আহত হয়নি এবং এখনো কাউকে আটক করা যায়নি।
এর কয়েক ঘণ্টা পর সোমবার সকাল ৭টা ১০ মিনিটের দিকে মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার এবং কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহারের খাদ্যপণ্য প্রতিষ্ঠান ‘প্রবর্তনা’য় দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।
পুলিশ জানায়, মোটরসাইকেলে করে আসা দুই আরোহী প্রতিষ্ঠানের ভেতরে একটি এবং রাস্তায় আরেকটি ককটেল নিক্ষেপ করে। বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিক আহমেদ বলেন, দুষ্কৃতিকারীরা পরিকল্পিতভাবে প্রবর্তনা প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে ককটেল ছুড়ে মারে। আমাদের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে তদন্ত করছে।
সোমবার সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে ধানমন্ডি এলাকায়ও কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে করে এসে ইবনে সিনা হাসপাতালের সামনে দুটি এবং রাপা প্লাজার বিপরীতে মাইডাস সেন্টারের সামনে আরও দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।
ধানমন্ডি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান বলেন, কোনো হতাহত হয়নি। ঘটনাস্থল থেকে আলামত ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে, তদন্ত চলছে।
ধানমন্ডি জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জিসানুল হক জানান, দুজন মোটরসাইকেল আরোহী ককটেল ছুড়ে মেরে পালিয়ে যায়। পুলিশ তাড়া করলে তারা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।
এর আগে গত শনিবার মোহাম্মদপুরের সেন্ট যোসেফ উচ্চবিদ্যালয়ের ভেতরে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তারও একদিন আগে, শুক্রবার, কাকরাইলের সেন্ট মেরিস ক্যাথেড্রাল চার্চে হাতবোমা হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক এসব ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনায় নগরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।