রাজবাড়ীতে উত্তেজনা: নুরাল পাগলার দরবারে হামলার ঘটনায় পরিবার চুপ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আলোচিত নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার দরবারে শুক্রবারের সহিংস হামলার পর পুরো এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে অস্থিরতা এড়াতে দরবার ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, দরবারের ভেতরের সব ভবন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ভস্মীভূত আসবাবপত্র থেকে এখনও ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। কৌতূহলী জনতা ভিড় করলেও পুলিশ তাদের সরে যেতে বাধ্য করছে।
পুলিশের ওপর হামলায় মামলা
ঘটনার পরদিন ভোররাতে গোয়ালন্দ ঘাট থানার এসআই সেলিম মোল্লা বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। পুলিশের দাবি, হামলায় অন্তত ১০–১২ জন সদস্য আহত হয়েছেন।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর গোয়ালন্দে ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটির ডাকে সমাবেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে লাঠিসোঁটা ও হাতুড়ি নিয়ে বিক্ষোভে না আসার ঘোষণা থাকলেও কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পরে কয়েকশ’ লোক মিছিল নিয়ে নুরাল পাগলার দরবারে প্রবেশ করে আগুন ধরিয়ে দেয় ও মালামাল লুট করে। বিকেল পাঁচটার দিকে নুরাল পাগলার কবর থেকে কফিন তোলা হয় এবং তা সড়কের মাঝখানে এনে পুড়িয়ে ফেলা হয়।
এই সহিংসতায় অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাসেল মোল্লা নামের এক ভক্ত মারা যান।
গত ২৩ আগস্ট বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান নুরাল পাগলা। তার অনুসারীরা বিশেষভাবে উঁচু করে আস্তানার ভেতরেই কবর দেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় আলেম ও ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটি আপত্তি জানায় এবং কবর সমতল করার দাবি তোলে। দাবি পূরণ না হওয়ায় শুক্রবার বিক্ষোভ ও ‘মার্চ ফর গোয়ালন্দ’ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনার আগে প্রশাসনের সঙ্গে পরিবারের বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি। এ অবস্থায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি রাকিবুল ইসলাম জানান, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। তবে এখনো কেউ আটক হয়নি। দরবারে হামলার বিষয়ে নুরাল পাগলার পরিবারের পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়নি।