পুতিনের বিপক্ষে গিয়ে ইউক্রেনে সেনা পাঠাচ্ছে তুরস্ক!

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, প্রয়োজন হলে তার দেশ ইউক্রেনে সেনা পাঠাতে প্রস্তুত। এটি তুরস্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ, কারণ দেশটি দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন খাতে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। তবে, এখন তুরস্ক ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সরাসরি অংশ নেওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

তুরস্কের এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। ইউক্রেনের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তুরস্ক বেশ কৌশলগত অবস্থান বজায় রেখেছিল, বিশেষ করে ন্যাটো (নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন) সদস্য হিসেবে। তুরস্ক ইউক্রেনকে বিভিন্ন সামরিক সহায়তা যেমন বায়রাকতার টিবি-২ ড্রোন সরবরাহ করেছে, তবে এবার তুরস্ক বলছে, প্রয়োজনে তারা সেনা মোতায়েন করবে।

এখন পর্যন্ত তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান আনুষ্ঠানিকভাবে সেনা পাঠানোর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি, তবে তুরস্কের পক্ষ থেকে বারবার জানানো হয়েছে যে, তারা ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তুরস্কের এই অবস্থান রাশিয়ার জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে, বিশেষত যদি তারা সামরিকভাবে ইউক্রেনের মাটিতে জড়িত হয়, তাহলে মস্কো ও আঙ্কারার সম্পর্কের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।

এদিকে, ইউক্রেনের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়ানোর জন্য একের পর এক ইউরোপীয় দেশ তৎপর হয়ে উঠেছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ রোববার বলেন, তার দেশ ইউক্রেনের শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণের বিষয়ে বিবেচনা করবে। তিনি বলেন, “আমরা ইউক্রেনের প্রতি আমাদের সমর্থনের ব্যাপারে অত্যন্ত স্পষ্ট এবং অবশ্যই এটি খুব তাড়াতাড়ি বাস্তবায়িত হবে।”

অস্ট্রেলিয়া এরই মধ্যে প্যারিসে অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষা প্রধানদের বৈঠকে একটি প্রতিনিধি পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে, যেখানে ভবিষ্যতে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হবে। এর আগে, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যও তাদের সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে, বিশেষত শান্তিরক্ষা মিশনে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সরাসরি যুক্ত হওয়া এবং যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নিতে রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইউরোপীয় দেশগুলো এখন ইউক্রেনের প্রতি আরও দৃঢ় সমর্থন জানাতে তৎপর হয়ে উঠেছে।

তুরস্কের এই পদক্ষেপ এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর সমর্থন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে একটি নতুন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। তুরস্ক যদি সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে এটি বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হিসেবে তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে এবং রাশিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পর্কের নতুন একটি অধ্যায় শুরু হতে পারে।

All Categories