পুরান ঢাকায় লাল চাঁদ হত্যার বিচার দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে হবে: আসিফ নজরুল

রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যার মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।তিনি বলেন, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

শনিবার সকাল ১০টা ৯ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা জানান।

আসিফ নজরুল আরও লেখেন, মিটফোর্ডের নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন, ২০০২–এর ধারা ১০ অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।

গত বুধবার বিকেলে মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ব্যস্ত সড়কে লাল চাঁদ সোহাগকে পিটিয়ে, ইট-পাথর দিয়ে আঘাত করে মাথা থেঁতলে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় তাঁকে বিবস্ত্র করা হয়। কেউ কেউ তাঁর শরীরের ওপর উঠে লাফিয়েও আঘাত করে।হত্যার দৃশ্য আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে।

নিহত লাল চাঁদের বোন মঞ্জুয়ারা বেগম (৪২) বৃহস্পতিবার কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫–২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র‍্যাব। গ্রেপ্তারদের মধ্যে মাহমুদুল হাসান ওরফে মহিন এবং তারেক রহমান ওরফে রবিন রয়েছেন। বাকি দুজনের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।

ডিএমপির কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র এবং মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূল কারণ চাঁদাবাজি। নিহত লাল চাঁদ একসময় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।এদিকে ঘটনায় বিএনপির অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর সংশ্লিষ্টতা প্রকাশ্যে এসেছে।

জাতীয়তাবাদী যুবদল শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক জলবায়ুবিষয়ক সহসম্পাদক রজ্জব আলী ওরফে পিন্টু (১৩ নম্বর আসামি) এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবাহ করিম ওরফে লাকিকে (১১ নম্বর আসামি) বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়। একইসঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া চকবাজার থানা ছাত্রদলের সদস্যসচিব অপু দাস (১৭ নম্বর আসামি) এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য কালু ওরফে স্বেচ্ছাসেবক কালুকে (১২ নম্বর আসামি) তাঁদের নিজ নিজ সংগঠন থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড রাজধানীর জন্য একটি অশনিসঙ্কেত। অপরাধীদের দ্রুত বিচারের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

All Categories