পুলিশের হিসাবেও দেশে খুন ডাকাতি ছিনতাই ধর্ষণ বেড়েছে
দিনদুপুরে খোদ রাজধানীতে চলন্ত বাসে অস্ত্র ঠেকিয়ে লুটপাট চলেছে। প্রান্তিক জনপদে ট্রিপল মার্ডার। দেশজুড়ে দাপিয়ে বেড়ানো কিশোর গ্যাং।
‘ডেভিল হান্ট’ নামে বিশেষ অভিযানের মধ্যেও খুনোখুনি, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণ, মব ভায়োলেন্স– এমন কোনো অপরাধ নেই, যা ঘটছে না।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দেশে যতো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তা গেল গত পাঁচ বছরের তুলনায় বেশি। খুন, অপহরণ, চুরি ও ডাকাতির সংখ্যা বেড়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার 'আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক' বক্তব্যের সঙ্গে পুলিশের এই তথ্য সম্পূর্ণ বিপরীত।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিভিন্ন থানায় অন্তত ২৯৪টি হত্যা মামলা হয়েছে, যা গত বছরের একই মাসে ছিল ২৩১টি। এর আগের চার বছরের একই মাসে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২১৪, ২৬৪, ২৫৭ ও ২৭৩টি।
চলতি বছরের প্রথম মাসে ডাকাতির মামলা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭১টিতে, যা গত বছরের জানুয়ারিতে ছিল ১১৪টি। অপহরণের মামলাও চলতি বছরের জানুয়ারিতে দ্বিগুণ বেড়েছে।
গত ছয় বছরের মাসিক অপরাধের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে। এই দুই অভিযোগে একমাসে মোট মামলা হয়েছে ২৪২টি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরেও আগের পাঁচ বছরের একই মাসের তুলনায় ছিনতাই, ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনা বেড়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষ্যে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে 'অপারেশন ডেভিল হান্ট' শুরু হলেও অপরাধের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত আছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, বর্তমানে খুন, চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনা অনেক বড়েছে তা পুলিশের পরিসংখ্যাই প্রমাণ করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য যে সঠিক নয়, এটিই তার প্রমাণ। মানুষ ভয়ের মধ্যে বসবাস করছে। সরকারকে এ ব্যাপারে উদাসীন মনে হচ্ছে।
তিনি বলেন, 'অপরাধের হার জনসংখ্যার ওপর নির্ভর করে। অপরাধের হার বাড়ছে নাকি কমছে, তা জরুরি বিষয় নয়, তবে যখন অপরাধ বেড়ে যায় তখন জনগণের মধ্যে ভয়ের অনুভূতি তৈরি হয়।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. উমর ফারুক বলেন, ‘মানুষ এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে আছে, তারা আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চাইছে। এর কারণ দুর্বল প্রশাসন ও নিয়ন্ত্রণহীন সমাজ ব্যবস্থা। এতে মানুষের মধ্যে এক ধরনের সোচ্চার ও উত্তেজনা মনোভাব তৈরি হয়েছে।’
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও বেশি কঠোর অবস্থান নিতে হবে। তবে শুধু গ্রেপ্তার কিংবা বল প্রয়োগ করে উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে, বিষয়টি এমন নয়।