প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে অভ্যুত্থানে আহত ও নিহতের পরিবারের অবস্থান
তিন দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও নিহত পরিবারের সদস্যরা। তারা বলছেন 'দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরব না'।
বুধবার সকাল থেকেই তারা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
বিকালের দিকে মূল ফটক অবরুদ্ধ করে সেখানে অবস্থান নেন। ফলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ভেতরে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বাংলাদেশ সময় রাত ১টা পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করছেন। সেই সাথে সারারাত অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে তারা বলছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত দাবি আদায় না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত অবস্থান ছাড়বেন না।
বিক্ষোভকারীদের একজন কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা সৌরভ বলেন, 'আমরা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে সারারাত অবস্থান করব। আমরণ কর্মসূচি পালন করব। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরব না।'
তিনি আরও বলেন, 'আমাদের অনেক ঘোরানো হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়, অনেক ঘোরানো হয়েছে। লিখিতভাবে আমাদের দাবিগুলো মেনে নিতে হবে। আমরা সম্মুখসারির যোদ্ধা। আমরা লিখিত প্রতিশ্রুতি না পাওয়া পর্যন্ত সড়ক ছেড়ে যাব না।'
সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে যারা আহত হয়েছেন, তাদের 'এ', 'বি' ও 'সি'—এই তিনটি শ্রেণিতে (ক্যাটাগরি) ভাগ করে সরকারি সুবিধা দেওয়া হবে।
প্রথম ক্যাটাগরিতে গুরুতর আহত ব্যক্তিদের এককালীন ৫ লাখ টাকা এবং প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার কথা বলা হয়। দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে এক অঙ্গহানি হয়েছে এমন অবস্থায় যারা আছেন, তাদের এককালীন ৩ লাখ টাকা এবং মাসে ১৫ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার কথা। তৃতীয় ক্যাটাগরিতে সামান্য আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন, ভালো হয়ে গেছেন—তারা অগ্রাধিকারভিত্তিতে চাকরি ও পুনর্বাসনে অগ্রাধিকার পাবেন। কিন্তু ভাতা পাবেন না।
আন্দোলনকারী আহতদের তিনটি শ্রেণি ভেঙে দুটি শ্রেণি করার দাবি তোলেন। তারা 'এ' ও 'বি' শ্রেণির আহতদের এককালীন অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি সবাইকে ভাতার আওতায় আনার দাবি করেন।
তাদের দাবিগুলো হচ্ছে-
ক্যাটাগরি পুনর্বিবেচনা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ: আহতদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরি ৩টি থেকে কমিয়ে ২টি করা হোক। সেই সঙ্গে পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
ক্যাটাগরি-এ (কর্মে অক্ষম): যেসব আহত যোদ্ধারা স্থায়ীভাবে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন (যেমন- পঙ্গুত্ব, চোখ হারানো, গুরুতর বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ আঘাত), তাদের জন্য মাসিক ভাতা ২০ হাজার টাকা। এককালীন অনুদান: আগে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এই ভাতা বাড়াতে হবে। কর্মসংস্থান: পরিবারে দায়িত্বশীল সদস্যদের সরকারি বা আধা-সরকারি পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
ক্যাটাগরি-বি (কর্মে সক্ষম): যেসব আহত যোদ্ধা সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন, তাদের জন্য মাসিক ভাতা ১৫ হাজার টাকা। এককালীন অনুদান: পূর্বের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এই ভাতা বাড়াতে হবে। কর্মসংস্থান: প্রশিক্ষণ ও সরকারি বা আধা-সরকারি পর্যায়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
বিশেষ সুরক্ষা আইন প্রণয়ন: আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে। এই আইনের আওতায় আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনও হুমকি, হয়রানি বা হত্যাচেষ্টা হলে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান থাকতে হবে। আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে কোনও ধরনের অবহেলা বা বৈষম্য করা যাবে না।
২৪/৭ ইমার্জেন্সি হটলাইন চালু: আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সুচিকিৎসা, মানসিক কাউন্সেলিং, হয়রানি প্রতিরোধ, সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টার টোল-ফ্রি হটলাইন চালুর দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।