পঞ্চম রাতেও সীমান্তে গুলি, ব্যাপক সেনা মোতায়েন ভারতের
কাশ্মীর সীমান্তে টানা পাঁচ রাত ধরে গুলিবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। ভারতীয় সেনার দাবি, বিনা উসকানিতে পাকিস্তানি সেনারা প্রথমে গুলি চালায়। এরপর ভারতও উপযুক্ত জবাব দিয়েছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর না থাকলেও, পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীরের কুপওয়ারা ও বারামুলা সেক্টরে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর হালকা অস্ত্রের গুলি চালায় পাকিস্তান। আখনুর সেক্টরেও একই ধরনের গুলির ঘটনা ঘটে। প্রতিদিন রাত বারোটার পর শুরু হয়ে এই গোলাগুলি চলে ভোর পর্যন্ত।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সীমান্তে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক সেনা। রয়েছে টহল ও ভারী মুভমেন্টও। গত বৃহস্পতিবার গেহেলগামে পর্যটকদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরণে ২৫ জন প্রাণ হারান। এ ঘটনায় আরও একজন স্থানীয় সহিসেরও মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার পর ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসলামাবাদ জানায়, তারা ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সিমলা চুক্তিসহ সব দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্থগিত করছে। এরপর থেকেই জম্মু, কাশ্মীর ও লাদাখ অঞ্চলে রাতভর গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছে সেনা সূত্র।
সীমান্ত উত্তেজনার মাঝেই পাকিস্তানে ভারতের রপ্তানিকৃত ওষুধের তালিকা চেয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এক্সপোর্ট কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, দ্রুত এই তালিকা সরবরাহ করতে হবে।
নিউজ১৮-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালে পাকিস্তান ভারত থেকে প্রায় ১৭ কোটি ৬৫ লাখ ৪০ হাজার ডলারের ওষুধ কিনেছে। তবে এই ক্রয় সরাসরি নয়; ভারত থেকে ওষুধ প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যায়, সেখান থেকেই তা পাকিস্তানে পৌঁছায়।
ভারতীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, পাকিস্তানে ওষুধ বিক্রি বন্ধ হলে ভারতের ব্যবসায়ী বা উৎপাদকদের তেমন ক্ষতি হবে না। কিন্তু পাকিস্তানের বাজারে ওষুধের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, এবং তাদের অনেক বেশি মূল্যে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ কিনতে হতে পারে।
সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘেও ভারতের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। জাতিসংঘে ভারতের সহকারী স্থায়ী প্রতিনিধি যোজনা প্যাটেল বলেন, ‘পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ স্বীকার করেছেন, গত এক দশক ধরে তাদের দেশ সন্ত্রাসবাদীদের সমর্থন করে আসছে। এই স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে, পাকিস্তান একটি দুবৃত্ত রাষ্ট্র এবং তারা সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহ দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তানের এই অবস্থান শুধু ভারতের জন্য নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করাই যেন তাদের রাষ্ট্রীয় নীতি হয়ে উঠেছে।
প্যাটেল অভিযোগ করেন, পাকিস্তান বিশ্বজুড়ে ভারতবিরোধী মিথ্যা প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এ নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা। তিনি এই মন্তব্য করেন জাতিসংঘের ভিকটিমস অফ টেররিজম অ্যাসোসিয়েশন নেটওয়ার্ক আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে।
এই অবস্থার প্রেক্ষিতে স্পষ্ট, দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক চরম উত্তেজনার দিকে ধাবিত হচ্ছে। সীমান্তে সেনা মোতায়েন বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্থগিত এবং বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা সব মিলিয়ে উপমহাদেশে স্থিতিশীলতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন অত্যন্ত প্রয়োজন।