পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু বিষয় সংসদের হাতে ছেড়ে দেয়া উচিত: অ্যাটর্নি জেনারেল

পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু দিক পরবর্তী জাতীয় সংসদের হাতে ছেড়ে দেওয়াই যুক্তিসঙ্গত হতে পারে বলে মত দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। আজ বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগে সংশোধনীর বৈধতা–সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে তিনি এ মত জানান। পরে আপিল বিভাগ আগামী ৫ মার্চ পর্যন্ত শুনানি মুলতবির আদেশ দেন।

শুনানির শুরুতে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ অ্যাটর্নি জেনারেলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, জামায়াতে ইসলামের আইনজীবীরা মনে করেন—পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে চূড়ান্ত রায় না দিয়ে পরবর্তী সংসদের হাতে বিষয়টি তুলে দেওয়া উচিত। এ প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, তারা চান শুনানি চলুক এবং আপিল বিভাগ থেকে একটি রায় আসুক।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা এমন কোনো রায় দিতে চাই না যাতে বিতর্ক তৈরি হয়। কয়েক দিন পর নতুন আপিল বিভাগ গঠিত হবে। সেখানে শুনানি হলে কেমন হয়? অথবা দীর্ঘ মুলতবি হলে তো সব পক্ষই সুবিধা পায়।’ আলোচনা শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, সরকার আজই শুনানি শেষ করতে চায়।

২০১১ সালের ৩০ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ ৫৪টি বিষয়ে পরিবর্তন এনে পাস হয় সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী। গত বছরের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের পর সংশোধনীটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দুটি রিট দায়ের হয়—একটি সুজন সম্পাদকসহ পাঁচজনের এবং আরেকটি নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেনের।

চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় দেয়। রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ–সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০ ও ২১ ধারা অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি সংবিধানে যুক্ত ৭(ক), ৭(খ) ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদও বাতিল ঘোষণা করা হয়। তবে পুরো সংশোধনী বাতিল না করে অন্যান্য বিষয়ে পরবর্তী সংসদের হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রাখে আদালত। একই সঙ্গে গণভোটের বিধানসংক্রান্ত ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে তিন পক্ষ পৃথক আপিল করেন—সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চারজন, মোফাজ্জল হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামী। ৩ ডিসেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে ৪, ৭, ৮ ও ১০ ডিসেম্বর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সুজনের পক্ষে শুরুতে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া।

All Categories