পাকিস্তানেই অনুষ্ঠিত হবে এসএ গেমস
সর্বশেষ সাউথ এশিয়ান গেমস হয়েছিল ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে নেপালে। আয়োজক হলেও গত সাত বছরে পাকিস্তানে হয়নি দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে গেমসের সময়সূচিও চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতির কারণে এ বছরও হয়নি এসএ গেমস। গত সোমবার উজবেকিস্তানের তাসখন্দে অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার সাধারণ সভায় গেমসের নতুন দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেছে পাকিস্তান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন।
নতুন সূচি অনুযায়ী ২০২৭ সালের ২৩-৩১ মার্চ লাহোর, ইসলামাবাদ, ফয়সালাবাদ ও করাচিতে হবে দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিক খ্যাত গেমসটি। যেহেতু পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির চেয়ে আরও অবনতি হয়েছে, সেহেতু আগামী বছরও ভারতের গেমসে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও ভারতের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না। বাকি ছয়টি দেশের প্রতিনিধিরা একমত হয়েছেন যে ভারত না খেললেও আগামী বছর এসএ গেমসটি যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে গতকাল সকালে ঢাকায় ফেরা বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব জোবায়দুর রহমান সমকালের কাছে এমনটাই জানিয়েছেন, ‘গেমসটি যথাসময়ে পাকিস্তানে হবে। আর যদি ভারত না খেলে, তাহলে বাকি ছয় দেশ নিয়ে হবে গেমস।’
অনেক দিন ধরেই ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের দেশে গিয়ে কোনো খেলাই খেলছে না। ফেব্রুয়ারিতে ভারতে অনুষ্ঠেয় টি২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ম্যাচ হবে শ্রীলঙ্কাতে। নিরাপত্তার কারণে ভারতে বিশ্বকাপ বয়কট করেছে বাংলাদেশ। গত বছর অনুষ্ঠিত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের খেলাগুলো পাকিস্তানের পরিবর্তে হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। তাই দুই দেশের সীমান্তের উত্তেজনা এখন সব জায়গায় ছড়িয়েছে। পাকিস্তানে গিয়ে ভারত যে এসএ গেমসে খেলবে না, তা বাংলাদেশসহ শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটানের প্রতিনিধিরাও মনে করছেন। তাই একটি দেশের জন্য এভাবে বারবার গেমস পেছানোর কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছে না দেশগুলো। যে কারণে আগামী এসএ গেমসে ভারতকে না দেখলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।
চলতি বছর বেশ কয়েকটি গেমস রয়েছে। জুলাই-আগস্টে গ্লাসগোতে কমনওয়েলথ, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে জাপানে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান গেমস। আছে ইয়ুথ অলিম্পিকের মতো ইভেন্ট। কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশের ডিসিপ্লিন অনেকটাই চূড়ান্ত। এশিয়ান গেমসের ডিসিপ্লিন এখনও ঠিক করেনি বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন। ২০২৬ সালে এসএ গেমস হবে বলে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে বাংলাদেশ প্রস্তুতিও শুরু করেছিল। কিন্তু গত বছরের শেষ দিকে এসে যখন বুঝতে পারে গেমস হবে না, তখন প্রস্তুতি বন্ধ করে দেয় ফেডারেশনগুলো।
নতুন সূচি অনুযায়ী এসএ গেমস শুরু হতে এক বছরের বেশি সময় বাকি। ডিসিপ্লিন চূড়ান্ত করার জন্য যথেষ্ট সময় পাচ্ছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন। তবে ১ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের নির্বাহী সভায় সামনের গেমসের ডিসিপ্লিনগুলো চূড়ান্ত হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন বিওএর মহাসচিব জোবায়দুর রহমান রানা, ‘ময়মনসিংহের ত্রিশালে অলিম্পিক ভিলেজ পরিদর্শনের পাশাপাশি নির্বাহী সভাও রয়েছে। সে সভায় আসন্ন গেমসগুলোর ডিসিপ্লিন ও প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হবে।’