পাচার করা টাকা পেটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে বের করে আনব: জামায়াতের আমির

শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড়ের ঐতিহাসিক চিনিকল মাঠে ১০–দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াতের আমির। জুমার নামাজের আজানের পর বক্তব্য শুরু করে প্রায় ১২ মিনিট কথা বলেন তিনি। পরে পঞ্চগড়–১ আসনের জোটপ্রার্থী সারজিস আলমের হাতে শাপলা কলি এবং পঞ্চগড়–২ আসনের প্রার্থী সফিউল আলমের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।

পঞ্চগড়েও মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের ঘোষণা দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। অর্থ কোথা থেকে আসবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চুরি করে বিদেশে পাচার হওয়া বিপুল অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে এবং ভবিষ্যতে কাউকে আর লুটপাট করতে দেওয়া হবে না।

বক্তব্যের শুরুতে উত্তরবঙ্গের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে জামায়াতের আমির বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকেই এই অঞ্চলকে পরিকল্পিতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ দেশের খাদ্য ও পুষ্টির জোগান দিলেও সৎমায়ের সন্তানের মতো আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জনসমর্থনের আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, তাঁদের কোনো কার্ড নেই, জনগণই তাঁদের কার্ড। জনগণের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে বেকারত্ব ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চান তাঁরা। কোনো অঞ্চলের মানুষকে দয়ার পাত্র হিসেবে বাঁচতে দেখতে চান না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরের ধনে পোদ্দারি করা হবে না। যুবক ও যুবতী—উভয়ের হাত শক্তিশালী করে নারী–পুরুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে দেশ গড়া হবে। উত্তরবঙ্গ থেকে বেকারত্ব দূর করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, প্রত্যেক নাগরিককে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে তৈরি করা হবে। উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী বানানো, বন্ধ চিনিকল চালু করা এবং শ্রমিকদের কাজে ফেরানোর কথাও বলেন তিনি।

উন্নয়ন বৈষম্যের সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, এত দিন উন্নয়নের স্লোগান ছিল ‘টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া’, কিন্তু বাস্তবে তার সুফল তেঁতুলিয়া পর্যন্ত পৌঁছায়নি। এই চিত্র উল্টে দিয়ে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ—সুষম উন্নয়নের কথা বলেন তিনি।

উত্তরবঙ্গের নদীগুলোর করুণ অবস্থার কথা তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, নদী হলো দেশের রক্তনালির মতো। সেই নদীগুলো ধ্বংস হওয়ায় মানুষের জীবনও সংকটে পড়েছে। ক্ষমতায় গেলে নদীর প্রাণ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি মানুষের জীবনেও প্রাণচাঞ্চল্য ফেরানো হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

বক্তব্যের শেষাংশে প্রচলিত রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, পাঁচ বছরে একবার মানুষের কাছে যাওয়া আর বাকি সময় খোঁজ না পাওয়া রাজনীতিকে তাঁরা ঘৃণা করেন। জনগণের পাশে থেকে রাজনীতি করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, পাঁচ বছরই উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

 

All Categories