অতি ঝুঁকির কেন্দ্র জামালপুরে কম, বরিশালে বেশি
একক আসন হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ (সদর ও সিটি করপোরেশন) আসনে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র সবচেয়ে বেশি। এই আসনে ১০০টি কেন্দ্রকে অতি ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়েছে। বরিশালের এই আসনের মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৭৬টি। ঝুঁকি বিবেচনায় কম কেন্দ্র জামালপুর ও নোয়াখালী জেলায়।
জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের ৯টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আসনটিতে মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৮৮টি। এ ছাড়া জামালপুর জেলার অন্য আরও চারটি আসনে কোনো কেন্দ্র ঝুঁকির তালিকায় নেই। কোনো কোনো কেন্দ্রে সংঘাত, হানাহানি, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে– এমন আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে পুলিশের বিশেষ শাখা প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সে প্রতিবেদনেই এমন তথ্য উঠে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র বিবেচনায় পুলিশের বিশেষ শাখার সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেশের সব আসনের তিন হাজার ১১৫টি কেন্দ্রকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর আগের একটি প্রতিবেদনে সারাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ছিল ১৬ হাজার ৩৫৯টি। ঝুঁকি নেই এমন ভোটকেন্দ্র (সাধারণ) ১৭ হাজার ৬৫৬টি।
প্রতিবেদনে ঝুঁকি বিবেচনায় কম কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে ময়মনসিংহ-১১ আসনে ১টি, ময়নমনসিংহ-২ আসনে ৩টি, পাবনা-১ আসনে ৬টি, ঝিনাইদহ-৪ আসনে ৭টি, চট্টগ্রাম-২ আসনে ৩টি, নোয়াখালী-২ আসনে দুটি, নোয়াখালী-৬ আসনে ৬টি, সাতক্ষীরা-১ আসনে ৫টি, টাঙ্গাইল-৮ আসনে ৯টি, ঢাকা-৩ আসনে ৭টি ও বরিশাল-১ আসনে দুটি।
ঝুঁকি বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রের মধ্যে আছে চট্টগ্রাম-১০ আসনে ৯৪টি, ঢাকা-৭ আসনে ৯০টি, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ৮৪টি, পটুয়াখালী-৩ আসনে ৮০টি, ভোলা-২ আসনে ৭১টি, ঢাকা-৪ আসনে ৭০টি, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে ৬৮টি, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ৫৯টি, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে ৫৭টি, খুলনা-৪ আসনে ৫৮টি ও ময়মনসিংহ-৯ আসনে ৫৪টি কেন্দ্র।
পুলিশ সূত্র বলছে, অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ৩ জন পুলিশ সদস্য, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে দুজন ও সাধারণ কেন্দ্রে একজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করার প্রাথমিক পরিকল্পনা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের কাছে অস্ত্র ও ‘বডি-ওর্ন ক্যামেরা’ (ভিডিও ক্যামেরা, যা পোশাক বা ইউনিফর্মে যুক্ত করে রাখা যায়) থাকবে। এ ছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন আনসার সদস্য থাকবেন। এর বাইরে সেনাবাহিনী, বিজিবি সদস্যরাসহ বিভিন্ন বাহিনী নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে। পুলিশের একটি সূত্র বলছে, ব্যালট পেপার ও নির্বাচনী সরঞ্জাম যেসব জায়গায় রাখা হয়েছে, সেখানে নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।