অপু বিশ্বাস-শাওন-জায়েদ খান-নুসরাত ফারিয়াসহ ১৭ অভিনয়শিল্পীর নামে মামলা

অপু বিশ্বাস-শাওন-জায়েদ খান-নুসরাত ফারিয়াসহ ১৭ অভিনয়শিল্পীর নামে মামলা

ঢাকাই চলচ্চিত্র অঙ্গন এবার এক নতুন আলোচনার কেন্দ্রে। বড় পর্দার জনপ্রিয় সব অভিনয়শিল্পীর নাম এবার উঠে এসেছে একটি গুরুতর মামলার আসামি হিসেবে।

রাজধানীর ভাটারা থানাধীন এলাকায় ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত একটি ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় আসামি করা হয়েছে চলচ্চিত্র ও টিভি অঙ্গনের ১৭ শিল্পীকে। তাদের মধ্যে রয়েছেন নুসরাত ফারিয়া, অপু বিশ্বাস, জায়েদ খান, নিপুণ আক্তার, সুবর্ণা মোস্তফা, রোকেয়া প্রাচী, সোহানা সাবা, আশনা হাবিব ভাবনা, মেহের আফরোজ শাওন, জ্যোতিকা জ্যোতিসহ অনেকে।

ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহুরুল ইসলাম জানান, ‘হত্যাচেষ্টা’র অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় এই ১৭ শিল্পীকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি আদালত থেকে তদন্তের জন্য থানায় এসেছে। আইন অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম চলছে বলে জানান তিনি।

মামলাটি দায়ের করেছেন এনামুল হক নামের এক ব্যক্তি। ঢাকার সিএমএম আদালতে দায়েরকৃত এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর মন্ত্রিসভা, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ২৮৩ জন নেতা-কর্মী এবং আরও তিন-চার শ’ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ও সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ওই সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এই হামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন কয়েকজন তারকা। অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়ার বিরুদ্ধে অর্থায়নের অভিযোগও আনা হয়েছে।

চলচ্চিত্র অঙ্গনে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নতুন নয়। অতীতে বিভিন্ন সময়ে তারকাদের দলীয় অনুষ্ঠান, প্রচারণা এবং সরকারি পদে থাকার নজির রয়েছে। তবে সরাসরি সহিংসতার ঘটনায় এমন সংখ্যক তারকার বিরুদ্ধে মামলার ঘটনা নজিরবিহীন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন লেখেন, আমরা যদি সত্যিই হত্যাচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত হতাম, তাহলে কোনো তদন্ত ছাড়াই এতদিনে প্রমাণ আসত। এই মামলা প্রমাণ করে দেশে মত প্রকাশ বা ভিন্ন অবস্থান নেয়ার দায়ও এখন ভয়ংকর হয়ে উঠেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুব কবির মনে করেন, মামলাটি যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়, তবে তা হয়রানির শামিল। তবে অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাহলে তা সাংস্কৃতিক অঙ্গনের তারকাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে ভাবনার দরজা খুলবে।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবীণ অভিনেতা বলেন, তারকারা মত প্রকাশ করতে পারেন। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ গভীর সংকেত দেয়। এটি শুধু একটি মামলা নয়, এটি সাংস্কৃতিক পরিসরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

 

All Categories