‘অপমানিত বোধ করছেন’ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, নির্বাচনের পর পদত্যাগ করতে চান
আগামী বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি ‘অপমানিত’ বোধ করছেন বলে উল্লেখ করেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান রাষ্ট্রপতি।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা থেকে হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি চলে যেতে আগ্রহী। আমি সত্যিই যেতে চাই। তবে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার কথাও জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রায় সাত মাস ধরে তাঁর সঙ্গে দেখা করছেন না। এমনকি রাষ্ট্রপতির বাসভবনের প্রেস বিভাগ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস থেকেও তার প্রতিকৃতি সরিয়ে নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, দূতাবাস, হাইকমিশন ও কনসুলেটে রাষ্ট্রপতির ছবি ছিল, যা এক রাতের মধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এতে জনগণের কাছে ভুল বার্তা যায় যে আমাকে হয়তো সরিয়ে দেওয়া হবে। আমি খুবই অপমানিত বোধ করেছি।
রাষ্ট্রপতি জানান, প্রতিকৃতি সরানোর বিষয়ে তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠিও দিয়েছিলেন, তবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষায়, আমার কণ্ঠরোধ করা হয়েছে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব নেন মো. সাহাবুদ্দিন। সাংবিধানিকভাবে তিনি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হলেও কার্যনির্বাহী ক্ষমতা থাকে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে চলে গেলে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা গুরুত্ব পায়। সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর তিনি দেশের শেষ সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না রয়টার্সের এমন প্রশ্নে তিনি উত্তর দেননি। সাহাবুদ্দিন শুধু জানান, রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন।
রয়টার্স জানায়, এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর কোনো মন্তব্য করেনি।