ওসমান পরিবারের ১২৬ কোটি টাকা জালিয়াতি, হাইকোর্টে তদন্তের নির্দেশ
বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম পরিচিত নাম শামীম ওসমানের পরিবারের প্রতিষ্ঠান ‘কে টেলিকম’-এর বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সরকারের পাওনা ১২৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠায়, পুলিশ ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-কে ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
এই রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, গত ১৪ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘জালিয়াতিতে ওসমান পরিবার’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল, যা রিটকারী সাখাওয়াত হোসেন যুক্ত করেছিলেন। প্রতিবেদনটি উল্লেখ করে বলা হয়, সরকারী পাওনা ১২৬ কোটি টাকা একরকম জালিয়াতি করে এড়িয়ে গেছে ওসমান পরিবার। অভিযোগে বলা হয়, ‘কে টেলিকম’ (পরে ইন্টারন্যাশনাল ভয়েস টেল লিমিটেড নামে পুনঃনামকরণ হয়) নামক প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক টেলিফোন কল আসে, এবং এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা সরকারের পাওনা হয়ে থাকে।
এদিকে, বিটিআরসির নথিপত্র থেকে জানা যায়, সাখাওয়াত হোসেন ‘কে টেলিকম’-এর মালিকানায় একজন অংশীদার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। শামীম ওসমানের পরিবারই মূলত এই প্রতিষ্ঠানটির মালিক ছিল। ২০১২ সালে শামীম ওসমানের স্ত্রী সালমা ওসমান ও ছেলে ইমতিনান ওসমানের নামে প্রতিষ্ঠানটির ১৫ বছরের জন্য লাইসেন্স নেয়া হয়। সেই সঙ্গে, শামীম ওসমানের শ্যালক তানভীর আহমেদ এবং তার ঘনিষ্ঠ দুই সহযোগী, জয়নাল আবেদীন মোল্লা ও জাহাঙ্গীর হোসেন মোল্লাও এর মালিকানায় যুক্ত ছিলেন।
তবে, ২০১৩ সালের ৪ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটি ‘কে টেলিকম’-এর মালিকানা সাখাওয়াত হোসেন, সিলেটের স্কুল শিক্ষক দেবব্রত চৌধুরী ও বগুড়ার অফিস সহকারী রাকিবুল ইসলামের নামে হস্তান্তর করা হয়। তবে, এসব ব্যক্তিরা জানিয়েছেন যে, তারা কখনও এই মালিকানার বিষয়ে জানতেন না এবং তাদের নাম জালিয়াতি করে মালিক হিসেবে দেখানো হয়েছে।
এ ঘটনায়, হাইকোর্টের আদেশে তদন্ত শুরু হওয়ায় শামীম ওসমান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের তদন্ত আরও তীব্র হতে পারে।