ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ

আজ ৭ মার্চ, বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ, ঢাকা শহরের রমনার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) লাখ লাখ মানুষের সামনে এক অমর ভাষণ দিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যে ভাষণটি বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি মাইলফলক হিসেবে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এই ভাষণটি শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল না,বরং একটি জাতির মুক্তির সংগ্রামের প্রেরণা, যা স্বাধীনতা ও জাতীয়তাবোধের শক্তিশালী বার্তা বাঙালি জাতির মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত করে। বঙ্গবন্ধুর ঐ ১৯ মিনিটের ভাষণ ছিল জাতির চূড়ান্ত মুক্তির অঙ্গীকার, যেখানে তিনি পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন,এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা।

বঙ্গবন্ধু সেদিন তার ভাষণে শুধুমাত্র রাজনৈতিক সংগ্রামের ডাক দেননি, বরং বাঙালির ২৩ বছরের বঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পথ সুগম করেছিলেন। তিনি ঘোষণা করেছিলেন, “আমরা যখন মরতে শিখেছি, কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না। রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।” তার এই শক্তিশালী বক্তব্য ছিল এমন একটি মুহূর্ত, যা জাতিকে পাকিস্তানি শাসন থেকে মুক্তির সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অংশগ্রহণের জন্য অনুপ্রাণিত করেছিল।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসেই নয়, আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০১৭ সালে ইউনেস্কো (জাতিসংঘের শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা) এই ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর ২০২০ সালের ৭ অক্টোবর, বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদ ৭ মার্চকে “ঐতিহাসিক দিবস” হিসেবে ঘোষণা করে, যা এই দিনটির গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

তবে,বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গত বছর এক পরিবর্তন এসেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর আওয়ামী সরকার পতিত হয় এবং ১৭ অক্টোবর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৭ মার্চসহ আটটি জাতীয় দিবসের উদযাপন বাতিল করার ঘোষণা দেয়। এই সিদ্ধান্তে দেশব্যাপী নানা আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আজও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা এবং জাতীয় মুক্তির প্রতীক হিসেবে গৃহীত। এটি একটি শক্তিশালী বার্তা যা বাঙালি জাতির আত্মবিশ্বাস, ঐক্য এবং সাহসের চিত্র তুলে ধরে।

All Categories