নতুনরা অন্যের রক্তের ওপর দিয়ে নেতা হয়েছেন
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাস ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, জীবনে অনেক নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। কিন্তু এবারের নির্বাচন কেমন হবে তা এখনই বুঝতে পারছি না। জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী প্রচারে যে ধরনের কথাবার্তা বলছেন তাতে অসম ঘটনা ঘটছে দেশে।
আমার পক্ষে এর জবাব দেওয়া কঠিন। যারা নতুন রাজনীতি করেন তারা অন্যের রক্তের ওপর দিয়ে নেতা হয়েছেন। রবিবার রাতে শাহজাহানপুরে নিজ বাসভবনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাস সম্পর্কে নানা বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি প্রার্থী নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী।
প্রশ্ন : এবার নির্বাচনটা কেমন উপভোগ করছেন?
মির্জা আব্বাস : ভোটাররা খুব উৎসাহী। তারা ভোট দিতে আগ্রহী। কিন্তু এবার ভোট এনজয় করা যাচ্ছে না। পরিবেশ কঠিন হয়ে গেছে।জামায়াতসহ তাদের সাঙ্গোপাঙ্গরা আচরণ বহির্ভূত কার্যকলাপ করছে। নির্বাচন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এমনটাই করে যাচ্ছে। ঢাকা-৮ আসনের ২ লাখ ৮০ হাজার ভোটারের মধ্যে অর্ধেক ভোটার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এটা সন্দেহজনক, এই ভোটারগুলো কারা? যদি এসব ভোটার পাওয়া না যায় তাহলে নির্বাচন কমিশনকে বলব তাদের ভোটার বাতিল করুন। এরা ফল পরিবর্তন করে দিতে পারে।নির্বাচন মেনোপোটেট হতে পারে।
প্রশ্ন : নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে আপনি কতটা আশাবাদী।
মির্জা আব্বাস : বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। কারণ আমার নির্বাচনি এলাকার মানুষের কাছে আমি পরীক্ষিত মানুষ। আমি আশা করি, জনগণ আমাকে ভালবেসে ধানের শীষে ভোট দেবে। শুধু আমি নই, সারা দেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে ধানের শীষের জোয়ার বইছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষের বিপুল বিজয় হবে, ইনশাল্লাহ।
প্রশ্ন : জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটসমর্থিত এনসিপির নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী প্রচারের সময় আপনার নাম ধরে নানা অভিযোগ করে যাচ্ছেন। জবাবে কী বলবেন?
মির্জা আব্বাস : যতক্ষণ দোকানটা বন্ধ থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ভালো। কিন্তু দোকান খোলা হলে বোঝা যায় ভিতরে মাল-মসলা কী আছে? ওরা যখন মুখ খুলে তখন ওদের ভিতরে কি মাল আছে বোঝা যায়। অনেকেই চট করে নেতা হয়েছেন। নতুন যারা নেতা হয়েছেন তারা অন্যের রক্তের ওপর দিয়ে নেতা হয়েছেন। আর আমরা নিজেরাই রাজপথে রক্ত দিয়ে নিজেদের তৈরি করেছি। ১৯৭৭ সাল থেকে শুরু করছি আর এখন এখানে আসছি। ওরা চট করে নেতা হয়ে গেছে। ওদের নিয়ে কথা বলা খুব ডিফিকাল্ট। কারণ ওরা উল্টাপাল্টা ব্যাখ্যা করে উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বলে। যেগুলো আবার কাউন্টার রিপ্লাই করা খুব ডিফিকাল্ট। এগুলো চাই না।
প্রশ্ন : নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গ নিয়ে ইসিতে কোনো অভিযোগ দিয়েছেন কিনা?
মির্জা আব্বাস : নির্বাচন কমিশনে বহুবার অভিযোগ দিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাইনি। নির্বাচন কমিশনের আচরণে অবশ্যই পক্ষপাত রয়েছে। আমি ইলেকশন কমিশনে এ পর্যন্ত কয়েকটা অভিযোগ দিয়েছি। তার বাচনভঙ্গি কথাবার্তা তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ সবকিছু মিলে নির্বাচনে সহনীয় পরিবেশ নেই। ইলেকশন কমিশন থেকে জবাব পাইনি। জবাব পাওয়ার লক্ষণও দেখছি না। ইলেকশন কমিশন একটা পক্ষ অবলম্বন করেছে।
প্রশ্ন: প্রচারে কি সংকটের কথা শুনছেন বা আপনার প্রতিশ্রুতি কী?
মির্জা আব্বাস : আমার কাছে এলাকাবাসী কোনো সংকটের কথা বলছে না। এলাকার মানুষ আমার কাছে চাওয়ার আগেই সব পেয়েছে। আমি শুধু আমার এলাকা নিয়ে ভাবছি না, আমি পুরো শহর নিয়ে চিন্তা করি। যেহেতু আমি মেয়র ছিলাম। উন্নয়নে বহু কাজ করেছি। আমার এলাকায় হাসপাতাল, কবরস্থান, খেলার মাঠসহ অনেক কিছুই করেছি। তবে এলাকায় জলাবদ্ধতা সমস্যা আছে। যারা দায়িত্বে আছে তারা জানে না আসলে এই এলাকার পানি কোথায় দিয়ে যায়। এ ছাড়াও মশার সমস্যা আছে।
প্রশ্ন : মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে আপনার পদক্ষেপ কী হবে।
মির্জা আব্বাস : ৫ আগস্টের পর আমি চাঁদাবাজি বন্ধ করেছি। এখন আবার শুরু হয়েছে। মতিঝিল এলাকায় ক্যাসিনো খেলা বন্ধ করেছি। গ্রাম থেকে লোকজন এসে সর্বস্বান্ত হয়েছে। আমি এ খেলা বন্ধ করেছি। এলাকায় এখন কিশোর গ্যাং নেই এরা কোথায় গেল? খোঁজ নিয়ে দেখেন?
প্রশ্ন : অন্তর্বর্তী সরকার কি নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করছে।
মির্জা আব্বাস : সরকারের তো একটা প্রোগ্রাম আছেই। কথা আছে- বিনা বাতাসে গাং নড়ে না। মানে পানি বিনা বাতাসে নড়ে না। কোথাও না কোথাও বাতাস তো আসতেছে নালে। যেসব দল যেভাবে কথাবার্তা বলছে এদের মুখ থেকে এরকম কথা বেরোনোর কথা নয়।
প্রশ্ন : আপনাকে ধন্যবাদ
মির্জা আব্বাস : আপনাকেও ধন্যবাদ
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।